- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মুন্ডাদের শাসন ব্যবস্থাই হলো ভারতের প্রথম গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা । The rule of the Mundas was the first democratic rule in India.
মুন্ডা শাসন ব্যবস্থা সংক্ষিপ্তরূপে আলোচনা করা হলো। তা এইরূপ ----
মুন্ডা ::-- ঝাড়খণ্ড প্রদেশের আদিবাসী সমাজের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও প্রগতিশীল জাতি হলো মুন্ডা জাতি।
প্রজাতি ::-- প্রোটোঅস্ট্রোলাইড (Proto Austroloid) according to J. H. Hutton.বাসস্থান::-- ঝাড়খন্ড প্রদেশের রাঁচি, খুঁটি, হাজারিবাগ, গুমলা, সিমডেঙ্গা, গিরিডি, সিংভুম আর সাঁওতাল পরগনাতেও মুন্ডারা আছেন। আর এই সব জায়গা গুলোতে মুন্ডা শাষন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। এখন মুন্ডারা উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিসগড় আরও অন্যান্য আলাদা আলাদা এলাকাতে গিয়ে বসবাস করে আছেন।
মুন্ডাদের ভাষা :: -- আদিবাসী মুন্ডাদের ভাষা হলো "মুন্ডারি" ভাষা। মুন্ডারা তাদের ভাষাকে 'হড় জাগার' বলে থাকে।
খুঁটকাটি হাতু ::-- জীবিকা চালনের জন্য মুন্ডারা বনজঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষিকাজ করে ও সেখানে স্থায়ী বসবাস করে। কৃষিকার্যের স্থলকে 'খুঁটকাটি বাদি' ও বসতি স্থলকে 'খুঁটকাটি হাতু' বলে।খুঁটের মানে হলো একটা পরিবার। আর এই খুঁটরাই হল ওই বনজঙ্গলের মালিক। আর যে এই বনজঙ্গল পরিষ্কার করে চাষের স্থল ও গ্রাম গড়ে তুলেছে তাকে খুঁটকাটিদার বলে।
সারনা ::-- থাকার জন্য মুন্ডারা যে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে গ্রাম তৈরি করেছিল ঐ বনের একটা ছোট্ট জায়গা ঘিরে "সারনা" স্থল তৈরি করেছিল। ওখানে তারা পূজা করত, আর ওটা হলো গ্রামের পূজাস্থল। সব মুন্ডা গ্রামে "সারনা" স্থল আছে। মুন্ডাদের গ্রামের পুজাস্থল কে "সারনা" স্থল বলে। যিনি পুজা করে তাকে 'পাহান' বলে।
আখড়া ::-- এটা গ্রামের মাঝখানে একটা বড়ো গাছের তলায় হতো। এখানে গ্রামের মিটিং হয়,বিচার হয় আর পঞ্চায়েতের মিটিং হয়, সন্ধ্যায় মুন্ডারি নাচ-গান হয়ে থাকে।
সাসান ::-- মুন্ডা সমাজে কোনো মানুষ মারা গেলে সেই মৃতদেহকে মাটিতে কবর দেওয়া হতো এবং ওই কবরের ওপর একটা পাথর পুঁতে রাখা হতো। মুন্ডা জনজাতির সমাধিস্থলকে 'সাসান' বলে। সমাধিস্থলে যে পাথর রাখা হয় তাকে "সাসান দিরি' বলে।
গিতিঅড়া ::-- মুন্ডা জনজাতির যুবাগৃহকে গিতিঅড়া বলে থাকে। এখানে যুবক যুবতীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি পরম্পরা সম্পর্কে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। ওখানে যুবক যুবতীদের আলাদা আলাদা গিতিঅড়া থাকত। সন্ধ্যায় খাবার পরে যুবক যুবতীরা তাদের নিজেদের নিজেদের গিতিঅড়াতে চলে যেত এবং ওখানে তাদের সমাজ,সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো। এছাড়া ও সেখানে তারা নাম কাহিনী, কথা কাহিনী শিখত। এবং নাচ,গানের অভ্যাস করত।
মুন্ডা প্রশাসন ব্যবস্থা ::-- মুন্ডাদের নিজস্ব শাষন ব্যবস্থা আছে। এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক মুন্ডা গ্রামে পঞ্চায়েত থাকে।পঞ্চায়েতের প্রধানকে 'মুন্ডা' বলে। কিছু মুন্ডা গ্রাম নিয়ে 'পট্টি' গঠিত হয়। পট্টির প্রধানকে 'মানকি' বলে। কিছু পট্টি নিয়ে 'পাড়হা' গঠিত হয়। পাড়হার প্রধানকে 'পাড়হা রাজা' বলে।
'পাড়হা'র একটা পঞ্চায়েত আছে যেটাকে "পাড়হা পঞ্চায়েত" বলা হয়। মুন্ডা-মানকি-পাড়হা রাজারা ভোটে দাঁড়াতেন। পাড়হা রাজার পাঁচজন সচিব থাকত। তাঁরা হলেন ১) দিবান ২) ঠাকুর ৩)পান্ডে ৪) কর্তা ৫) লাল। পাড়হা রাজাকে প্রশাসনিক কাজে সাহায্য করত ওই সচিবরা। এই পাঁচ সচিবপদ বংশানুক্রমে চলে আসছে।
মুন্ডাদের এই শাষন ব্যবস্থাই হল ভারতের প্রথম গনতান্ত্রিক শাষন ব্যবস্থা।
![]() |

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন