সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুন্ডাদের শাসন ব্যবস্থাই হলো ভারতের প্রথম গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা । The rule of the Mundas was the first democratic rule in India.

 মুন্ডা শাসন ব্যবস্থা সংক্ষিপ্তরূপে আলোচনা করা হলো। তা এইরূপ ----

মুন্ডা ::-- ঝাড়খণ্ড প্রদেশের আদিবাসী সমাজের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও প্রগতিশীল জাতি  হলো মুন্ডা জাতি।

প্রজাতি ::-- প্রোটোঅস্ট্রোলাইড (Proto Austroloid) according to J. H. Hutton.

বাসস্থান::-- ঝাড়খন্ড প্রদেশের রাঁচি, খুঁটি, হাজারিবাগ, গুমলা, সিমডেঙ্গা, গিরিডি, সিংভুম আর সাঁওতাল পরগনাতেও  মুন্ডারা আছেন। আর এই সব জায়গা গুলোতে মুন্ডা শাষন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। এখন মুন্ডারা উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিসগড় আরও অন্যান্য আলাদা আলাদা এলাকাতে গিয়ে বসবাস করে আছেন।

মুন্ডাদের ভাষা :: -- আদিবাসী মুন্ডাদের ভাষা হলো  "মুন্ডারি" ভাষা। মুন্ডারা তাদের ভাষাকে 'হড় জাগার' বলে থাকে।

খুঁটকাটি হাতু ::-- জীবিকা চালনের জন্য মুন্ডারা বনজঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষিকাজ করে ও সেখানে স্থায়ী বসবাস করে। কৃষিকার্যের স্থলকে 'খুঁটকাটি বাদি' ও বসতি স্থলকে 'খুঁটকাটি হাতু' বলে।খুঁটের মানে হলো একটা পরিবার। আর এই খুঁটরাই হল ওই বনজঙ্গলের মালিক। আর যে এই বনজঙ্গল পরিষ্কার করে চাষের স্থল ও গ্রাম গড়ে তুলেছে তাকে খুঁটকাটিদার বলে।

সারনা ::-- থাকার জন্য মুন্ডারা যে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে গ্রাম তৈরি করেছিল ঐ বনের একটা ছোট্ট জায়গা ঘিরে "সারনা" স্থল তৈরি করেছিল। ওখানে তারা পূজা করত, আর ওটা হলো গ্রামের পূজাস্থল। সব মুন্ডা গ্রামে "সারনা" স্থল আছে। মুন্ডাদের গ্রামের পুজাস্থল কে "সারনা" স্থল বলে। যিনি পুজা করে তাকে 'পাহান' বলে।

আখড়া ::-- এটা গ্রামের মাঝখানে একটা বড়ো গাছের তলায় হতো। এখানে গ্রামের মিটিং হয়,বিচার হয় আর পঞ্চায়েতের মিটিং হয়, সন্ধ্যায় মুন্ডারি নাচ-গান হয়ে থাকে।

সাসান ::-- মুন্ডা সমাজে কোনো মানুষ মারা গেলে সেই মৃতদেহকে মাটিতে কবর দেওয়া হতো এবং ওই কবরের ওপর একটা পাথর পুঁতে রাখা হতো। মুন্ডা জনজাতির সমাধিস্থলকে 'সাসান' বলে। সমাধিস্থলে যে পাথর রাখা হয় তাকে "সাসান দিরি' বলে।

গিতিঅড়া ::-- মুন্ডা জনজাতির যুবাগৃহকে গিতিঅড়া বলে থাকে। এখানে যুবক যুবতীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি পরম্পরা সম্পর্কে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। ওখানে যুবক যুবতীদের আলাদা আলাদা গিতিঅড়া থাকত। সন্ধ্যায় খাবার পরে যুবক যুবতীরা তাদের নিজেদের নিজেদের গিতিঅড়াতে চলে যেত এবং ওখানে তাদের সমাজ,সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো। এছাড়া ও সেখানে তারা নাম কাহিনী, কথা কাহিনী শিখত। এবং নাচ,গানের অভ্যাস করত।

মুন্ডা প্রশাসন ব্যবস্থা ::-- মুন্ডাদের নিজস্ব  শাষন ব্যবস্থা আছে। এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক মুন্ডা গ্রামে পঞ্চায়েত থাকে।পঞ্চায়েতের প্রধানকে 'মুন্ডা' বলে। কিছু মুন্ডা গ্রাম নিয়ে 'পট্টি' গঠিত হয়। পট্টির প্রধানকে 'মানকি' বলে। কিছু পট্টি নিয়ে 'পাড়হা' গঠিত হয়। পাড়হার প্রধানকে 'পাড়হা রাজা' বলে।
'পাড়হা'র একটা পঞ্চায়েত আছে যেটাকে "পাড়হা পঞ্চায়েত" বলা হয়। মুন্ডা-মানকি-পাড়হা রাজারা ভোটে দাঁড়াতেন। পাড়হা রাজার পাঁচজন সচিব থাকত। তাঁরা হলেন ১) দিবান ২) ঠাকুর ৩)পান্ডে ৪) কর্তা ৫) লাল। পাড়হা রাজাকে প্রশাসনিক কাজে সাহায্য করত ওই সচিবরা। এই পাঁচ সচিবপদ বংশানুক্রমে চলে আসছে।
মুন্ডাদের এই শাষন ব্যবস্থাই হল ভারতের প্রথম গনতান্ত্রিক শাষন ব্যবস্থা।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ই, উ, উঁ, এ, এঁ এর ব্যবহার। --- মুন্ডারী অভিধান // Mundari dictionary//mundari abhidhan//Mundari sabdartha

 Mundari to Bengali translate               Mundari to Bengali dictionary                    !! ই !! ইতু -- শিখা। ইদুচা -- কে জানে, কি জানি। ইদাং – কিছু করার আগে। সকালে। ইসকির – মালিশ । ইদি -- নিয়ে যাওয়া। ইদি -- আউ -- নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা। ইদি রুওয়াড় – আউ রুওয়াড় -- নিয়ে গেছে, আবার নিয়ে আসা (অষ্টমঙ্গলা)। ইদিছাবা -- নিয়ে শেষ করে দেওয়া। ইদিতুকা -- পৌঁছে দেওয়া। ইদির -- সবসময় লাগাতার। এনদেরে – আগামী তিনদিনের পর চতুর্থদিন। (গাপা,মেয়াং, তেরে, এনদেরে) ইঁদি --- ইঁদ পরব। ইঁদি পিড়ি –ইঁদ মেলার মাঠ। ইনুং --  খেলা। ইঁদিখুণ্টা -- ইঁদ কাঠের খুঁটি। ইপিড় পিয়ুং -- তারাখসা। ইবিল -- ঘন। ইম -- কলিজা। ইমতাং -- তখন। ইঞাম –কাঁদা। ইর -- কাস্তে দিয়ে কাটা। ইসু সাগিং -- অনেক দূর। ইরাল –আট (সংখ্যা) ইরাল সা – আটবার। ইরিউল –স্বামীর ছােট ভাই, ছােট বােন। ইরেন – ধান কাটতে গিয়ে হাত কেটে যাওয়া। ইলি –হাঁড়িয়া ইলি আকিদ্ -- হাঁডিয়া বসানাে। ইলি চিপা -- হাঁড়িয়াকে জল দিয়ে বানান...

সারুল পূজা বা বা বঙ্গা

 "বা বঙ্গা" বা 'সারুল ' পূজা সাধারণত ফাল্গুন চৈত্র মাসে হয়। পূজার নির্দিষ্ট কোন দিন নেই তবে শাল গাছের যখন ফুল আসে, নতুন পাতা হয়, গাছে মহুল আসে এবং আম গাছে আম ফলে ওই সময় পূজা হয়। আগে গ্রামের 'দেহুরি' 'গরাম' থানে পূজা দেয়। তারপর বাড়িতে পূজা হয়। ঘরের ভিতরে 'হাড়াম বুড়ি' দের (পূর্বপুরুষদের) উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়া হয়। নতুন শাল ফুল, শালপাতার উপর আম, মহুল, ফুল শালপাতা তে দেওয়া হয়। পরে উঠোনে আবার পূজা করা হয়। ওখানে একটি 'হড়ে' কালটি ('কুড়থি' মুরগি) বলি দেওয়া হয়। যারা ফাগুন মাসে পূজা করতে পারে না তারা অবশ্যই চৈত্র সংক্রান্তির দিন "বা বঙ্গা" বা 'সারুল' পূজা করে। পূজার দিন গোটা বিরির ডাল রান্না করা হয়। 'হারলু' শাক এক রকমের শাক পাওয়া যায় সেই শাক বিরির ডালের সঙ্গে মেশানো হয়। এছাড়া কোথাও কোথাও "দিশুম বা বঙ্গা" অনুষ্ঠান পালিত হয়। পূজার দিন দল বেঁধে নারী-পুরুষ সবাই মিলে শাল ফুল আনতে জঙ্গলে যায়। পূজা কমিটির সভাপতি শাল গাছের নিচে পূজা করে। শাল ফুলের ডালা কেটে মিছিল সহকারে ধামসা মাদল বাজিয়ে...

বাঁধনা পরব বা 'সহরাই বঙ্গা' আদিবাসীদের উৎসব।

 'বাঁধনা' বা 'সহরাই বঙ্গা'  : -- বাঁধনা পরব বা সহরাই বঙ্গা হলো মূলত ঘরের গো মহিষাদির পূজা। এই পূজা কার্তিক মাসের অমাবস্যাতে হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন অর্থাৎ অমাবস্যা তিথি পড়লেই গরুগুলোর সিঙে তেল মাখানো হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন "গঠ" পূজা। "গঠ" মানে যেখানে গ্রামের সমস্ত গরুকে সকালবেলা জোড়ো করা হয়। গ্রামের সবাই একটি করে মুরগি, আতপ চাল, সিন্দুর নিয়ে পূজা স্থানে আসে। গ্রামের 'দেহুরি' পূজা করে। পূজা শেষে সমস্ত মুরগিকে ওখানে বলি দেওয়া হয় পূজা শেষ হলে সমস্ত মুরগির মাংস রান্না করে, খিচুড়ি হয়। সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘরে এসে ধামসা মাদল বার করে প্রত্যেক বাড়িতে গরু জায়গাতে ('জারগা') যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরের গোয়াল ঘরের দুয়ারে সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সবাই দল বেঁধে গান করতে করতে গরু জাগরণ করে। জাগরণ গান :-- রেইরেরে রেইরেরে রেইরেরে রেরে হো  রেই রেরে রেরে রেরে রেরে হো   পৌঁছাইতে পৌঁছাইতে কার্তিক মাস হো  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  হরিওরে  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  না গাইয়া কাঁদবে না গাইয়া হিঁজরবে   কিনি দিব সোনেকেরি...

"করম" দেবতার আদি কথা পর্ব ১ // karam rajar kahini

  অ নেক অনেক বছর আগেকার কথা এই পৃথিবী জুড়ে মৃত্তিকার (মাটির) কোনো অস্তিত্বই ছিল না। পৃথিবী জুড়ে ছিল শুধু জল আর জল।   স্বর্গপুরীর দেবতা রাজা দেবতা রানী দুজনে কথোপকথন হচ্ছিলেন ওই নিচে মাটি আছে না নেই দেখতে যাব চলুন। তাঁরা হাঁসের রূপ ধারণ করে উপর থেকে নিচে জলেতে নেমে আসলেন। জলেতে নেবে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মাটির খোঁজ করতে লাগলেন। কিন্তু কোন জায়গাতে মাটির একটুও চিহ্ন খুঁজে পেলেন না। তারপর একটা স্থানে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন কোথাও তো মাটি খুঁজে পেলাম না, চারিদিকে শুধু জল আর জল। দেবতা রাজা বললেন চলো স্বর্গে ফিরে চলে যায় স্বর্গের দেবী রানী বললেন না যাব না। এই জলের মধ্যে কারা থাকে ওদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করব, এই জলের নিচে মৃত্তিকা আছে না নেই। আর যদি আছে তবে কে মৃত্তিকা আনতে পারবে তাদের জিজ্ঞাসা করব। এই বলে জলের ভিতরে কারা কারা আছেন তাদের সবাইকে ডাকলেন। ডাক শুনে জলের ভিতর থেকে রাঘববোয়াল, কুমির, কচ্ছপ, কাঁকড়া আর কেঁচো উঠে আসলো। তারা সবাই মিলে দেবতা রাজা রানী কে জিজ্ঞাসা করল বলুন, আমাদের কিসের জন্য ডেকেছেন।দেবতারা   বললেন আচ্ছা তোমরা তো এই জলের মধ্যে থাকো জলের সবকিছুই তোমরা জানো। ব...

গরাম পূজা

 আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরাই সাধারণত এই "গরাম" পূজা করে থাকে। যেমন মুন্ডা, সাঁওতাল, কোল, কড়া, মাহাতো ইত্যাদি। মুন্ডা জনজাতিরা "গরাম" পুজা কিভাবে করে। মুন্ডারা মাঘ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধরে। পয়লা মাঘের দিন সকালে প্রত্যেক বাড়িতে গুরুজনদের পা ধুইয়ে দেওয়া হয়। ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে এবং বউরা পা ধুয়ে দেয় এবং গুরুজনেরা আশীর্বাদ করে। মাঘ পূজা :- 'মাঘ পূজা' মাসের যেকোনো শনিবার অথবা মঙ্গলবার দিন গ্রামের মাথায় পা মধ্যে পূজা করা হয়। পূজার দিন ভোর সকালে প্রত্যেক বাড়ি থেকেই "জুগিনি" ছাড়তে যাওয়া হয়। গ্রামের দক্ষিণ দিকে ফাঁকে কোন একটি ঝোপ ঝাড়ে এই "যুগিনি" দেবীর পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় বাসি ভাত-তরকারি, সিন্দুর, ধুপ, একটা কালো মুরগি বাচ্চা, ভাঙ্গা কুলো, ঝুড়ি, এবং একটি মুড়ো ঝাঁটা। বাড়ি থেকেই মুড়ো ঝাঁটাটি টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে "যুগিনি" ছাড়া হবে সেখানে পর্যন্ত। গ্রামের সবাই সেখানে উপস্থিত হলে "দেহুরি" "যুগিনি" দেবীর পূজা করেন। এবং মুরগির বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ...

Mundari to Bengali meaning || Mundari to Bengali dictionary || Mundari to Bengali translate || মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্য।

 Mundari to Bengali translate  মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার। ইং — আমি। আলিং – আমরা দুজন। আলে -- আমরা অনেকে। ইঞাঃ – আমার। আলিঞাঃ – আমাদের দুজনের। আলেয়াঃ – আমাদের সকলের। আঞকে – আমাকে। আলিংকে – আমাদের দুজনকে। আলেকে -- আমাদিগকে। আম্ -- তুমি। আবেন -- তােমরা দুজনে। আপে -- তােমরা সকলে। আমাঃ -- তােমার। অবেনাঃ -- তােমাদের দুজনে। আপেয়াঃ -- তােমাদের সকলের। আমকে -- তােমাকে। আবেনকে -- তােমাদের দুজনকে। আপেকে -- তােমাদিগকে। আএ -- সে। আকিন – তারা দুজনে। আক -- তাহারা। আয়াঃ — তার। আকিনাঃ -- তাদের দুজনের। আকওয়াঃ — তাহাদের। আএ কে -- তাকে। আকিনকে -- তাদের দুজনকে। আককে – তাহাদিগকে। নিকুঃ -- ওরা। নিকুঃগে -- ওরাই। নিকুয়াঃ গে – ওদেরই। এঁগাঞ -- আমার মা। আপঞ – আমার বাবা। এঁগাম্ -- তােমার মা। আপম্ -- তােমার বাবা। এঁগাতেদ্ — তার মা। আপতেদ্ -- তার বাবা। হঁজারিং – শ্বশুর (আমার) হানারিং – আমার শ্বাশুড়ি। ইঁজার মে – তােমার শ্বশুর। হানার মে -- তােমার শ্বাশুড়ি। হঁজারতেদ্ -- তার শ্বশুর। হানারতেদ্ – তার শ্বাশুড়ি। বাউ হঁজারিং – তােমার ভাসুর। । আজ...

মুণ্ডাদের মাতৃভাষা হারিয়ে যেতে বসেছে !!!

 ভারতের শিক্ষিত মানুষেরা গবেষণা করে দেখেছেন মুন্ডারাই নাকি ভারতের আদিম আদিবাসী। মুন্ডাদের সংস্কৃতিই নাকি ভারতের আদি সংস্কৃতি। কিন্তু আজ বহির্বিশ্বের পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ঘূর্ণিঝড়ের মতো এসে মূল মঞ্চ থেকে সরিয়ে অন্য মঞ্চে বসিয়ে দিয়েছে। শুধু মুন্ডা সংস্কৃতি নয় ভারতের সংস্কৃতিকেও আজ অন্য মঞ্চে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পারিনি কখন কিভাবে এমনটা ঘটে গেছে। সংস্কৃতির সাথে সাথে আমরা মুন্ডারা নিজেদের ভাষা ও ভুলে যেতে বসেছি। নিজেদের ভাষায় কথা না বলে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলছি। যারা মুন্ডারী ভাষা জানি না তারা বড় হলে বলে 'মা বাবা ছোট বেলায় মুন্ডারী ভাষা শিখাইনি। এখন কি করে মুন্ডারী ভাষায় কথা বলব'। এটা খুবই সত্যি কথা ছোটবেলায় মা বাবা যদি কথা বলতে না শিখায় তাহলে শিশু শিখবে কি করে। কারণ মা হচ্ছে শিশুটির কাছের মানুষ। মা প্রথম শিশুটিকে কথা বলতে শিখায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনকার দিনের মুন্ডা পরিবারের মায়েরা মুন্ডারী ভাষা জানা সত্ত্বেও শিশুটিকে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলতে শেখাচ্ছে। শিশু বয়সেই যদি আমরা শিশুদের দিকু ভাষায় কথা বলতে শিখাই তাহলে সেই শিশুরা বড় হলে দিকুতেই কথা বলব...

'লগ্ন ধরা' "আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 2

  আজকের পর্ব হলো 'লগ্ন ধরা' :- যেদিন লগ্ন ধরা হয় সেদিন পাত্রর বাড়ি থেকে "দুতামদার" সহ তিন থেকে পাঁচজন যায়। বাকি যে চার আনা পণ বাকি ছিল সেটা পাত্রীপক্ষের হাতে তুলে দেয়। এবং বিয়ে বাড়ির লগ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিয়ে বাড়ি সাধারণত ফাগুন মাসেই হয়। ঐ মাসে সম্ভব না হলে বৈশাখ অথবা আষাঢ় মাসে করা হয়। লগ্ন ধরার পর পাত্রপক্ষ পাত্রীপক্ষ কে সুপারি দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ করে। পাত্রীপক্ষও পাত্রপক্ষকে সুপারি দিয়ে নিমন্ত্রণ করে। মুন্ডাদের বিয়েতে আত্মীয়দের সুপারি দিয়েই নিমন্ত্রণ করা হয়।বিয়ের দিন সমস্ত নতুন কাপড়কে কাঁচা হলুদ বেটে রং করা হয়। বিয়ে বাড়ির সময় হলুদ কাপড়ের গন্ধে সারা বিয়ে বাড়ি ম-ম গন্ধ করতে থাকে। কাপড় হলুদ করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। ফাগুন মাস হচ্ছে বসন্তকাল অনেক কুটুম বন্ধুর আনাগোনা। হলুদ হচ্ছে জীবাণুনাশক। কোন রোগ জীবাণু যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্য নতুন কাপড় রং করা হয়। বিয়ের আগের দিন সকালবেলা "ডাঙ্গুয়া বাইরুওয়াড়" করা হয়। বরকে ওঝা বা গুনিন গ্রামের বাইরে মাঠে উই ঢিলার নিচে পূজা করে এবং ছেলেকে সৎ সাহসী ও কর্মঠ হওয়ার উপদেশ দেয়। ঐরূপ মেয়ের ব...

মুণ্ডারা মানুষ 'মারা' গেলে কি করে ?

মৃত্যু :- মুণ্ডা পরিবারের কারও মৃত্যু হলে মৃত্যু ব্যক্তিকে উঠানে বার করে জল দিয়ে তার মুখমন্ডল ভালোভাবে ধুয়ে তেল হলুদ মাখানো হয়। ওখানে উপস্থিত সকলেই মাখায় এবং মৃত ব্যক্তি পর পারে যাওয়ার জন্য যার যতটুকু সামর্থ্য টাকা পয়সা দেয়। শ্মশানে যাওয়ার আগে মৃত ব্যক্তির হাতে ধান দিয়ে তিনবার মাথার পিছন দিকে ছিটানো হয়। এর কারণ মৃত ব্যক্তির সাথে অর্জিত সম্পদ যেন না যায়। সধবা মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামী তার হাতের শাঁখা ভেঙ্গে দেয় এবং তার দেওয়া লোহার খাড়ু খুলে নেয়। স্ত্রী বর্তমানে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর হাতের শাঁখা তার দেওরেরা ভেঙ্গ দেয়। তার পর হরিবোল ধ্বনি দিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের সামর্থ্য থাকে তারা খোল কত্তাল সহকারে শ্মশানে নিয়ে যায়। যে স্থানে দাহ করা হবে সেখানে প্রথমে তিনবার ঘোরানো হয়। তারপর চিতার উপর তোলা হয়।  যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তার উত্তরাধিকারীরাই কেবল মুখাগ্নি করে। দাহ করা হয়ে গেলে তিন দিন পরে গ্রামের মা বোনেরা হাঁড়ি কলসিতে করে জল এনে আগুন নেভায়। আগুন নেভানোর পর মৃত ব্যক্তির একটি অস্থি নেওয়া হয়। অস্থিটি একটি নতুন মাটির গাঁড়ুতে রাখা হয়। গাঁড়ুর মুখ...

"আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 1

  মুন্ডা সমাজের বিবাহ অনেক রীতিনীতির মধ্যে দিয়ে হয়। তাই মুন্ডাদের বিবাহ সম্পর্কে জানতে হলে তা কয়েকটি পর্বে আলোচনা করা যায়। (1) পাত্রী দেখা (2) পরিচিতি (3) লগ্ন ধরা (4) শালাভেট (5) বেদীসাল (6) কাদা খেলা (7) ফেরতি।  ' পাত্রী দেখা' :- মুন্ডা জাতি বা গোষ্ঠীর লোকেরা পাত্র খুঁজতে যায় না। পাত্রী খুঁজতে যায়। কোন কুটুম বন্ধুর মাধ্যমে পাত্রীর সন্ধান করে "দুতামদার" বা 'ঘটক' কে নিয়ে পাত্রী দেখতে যাওয়া হয়। পাত্রী পছন্দ করে ছেলের বাবা-কাকা অথবা গুরুজনেরা। পাত্রী পছন্দ হলে পাত্র দেখতে যায়। দু'পক্ষের পছন্দ হলে "তুপু চাউলি" বা গণনা করা হয়। বাড়ির বউ সকালে স্নান করে উঠানে গোবর নাতা দেয় এবং তার উপর কাঁসার বাটি ভর্তি জল রাখা হয়। ওই জলে ধর্ম দেবতার নামে একটি আতপ চাল ও গরাম দেবীর নামে একটি আতপ চাল ফেলা হয়। একজন সাক্ষী নামে একটি সরিষা সিন্দুর লাগিয়ে ওই জলে দেওয়া হয়। পাত্র পাত্রীর নামে দুটো দূর্বাঘাস বাটিতে ফেলা হয়। ওই আতপ চাল, দূর্বা এবং সরিষা বাটির জলে ঘুরতে ঘুরতে যদি এক সঙ্গে মিলিত হয় তাহলে বিবাহ সুখের হয়। বর্তমানে "তুপু চাউলি"র প্রথা প্...