সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

"করম" দেবতার আদি কথা পর্ব ১ // karam rajar kahini

 নেক অনেক বছর আগেকার কথা এই পৃথিবী জুড়ে মৃত্তিকার (মাটির) কোনো অস্তিত্বই ছিল না। পৃথিবী জুড়ে ছিল শুধু জল আর জল।

 স্বর্গপুরীর দেবতা রাজা দেবতা রানী দুজনে কথোপকথন হচ্ছিলেন ওই নিচে মাটি আছে না নেই দেখতে যাব চলুন। তাঁরা হাঁসের রূপ ধারণ করে উপর থেকে নিচে জলেতে নেমে আসলেন। জলেতে নেবে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মাটির খোঁজ করতে লাগলেন।

কিন্তু কোন জায়গাতে মাটির একটুও চিহ্ন খুঁজে পেলেন না। তারপর একটা স্থানে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন কোথাও তো মাটি খুঁজে পেলাম না, চারিদিকে শুধু জল আর জল। দেবতা রাজা বললেন চলো স্বর্গে ফিরে চলে যায় স্বর্গের দেবী রানী বললেন না যাব না। এই জলের মধ্যে কারা থাকে ওদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করব, এই জলের নিচে মৃত্তিকা আছে না নেই। আর যদি আছে তবে কে মৃত্তিকা আনতে পারবে তাদের জিজ্ঞাসা করব। এই বলে জলের ভিতরে কারা কারা আছেন তাদের সবাইকে ডাকলেন। ডাক শুনে জলের ভিতর থেকে রাঘববোয়াল, কুমির, কচ্ছপ, কাঁকড়া আর কেঁচো উঠে আসলো। তারা সবাই মিলে দেবতা রাজা রানী কে জিজ্ঞাসা করল বলুন, আমাদের কিসের জন্য ডেকেছেন।দেবতারা বললেন আচ্ছা তোমরা তো এই জলের মধ্যে থাকো জলের সবকিছুই তোমরা জানো। বলতো এই জলের নিচে মৃত্তিকা আছে না নেই। শুনে সবাই একসঙ্গে বলল এই জলের নিচে মৃত্তিকা আছে। স্বর্গের দেবতা রাজা-রানী বললেন কে মৃত্তিকা নিয়ে আনতে পারবে এই জলের উপরে। তারা সবাই বলল মৃত্তিকা নিয়ে আসলে তাদের কি উপহার দিবেন বলুন। তারা মাটি নিয়ে আসবে। তখন দেবতা রাজা রানী তাদের আসল রূপ ধারণ করে বললেন আমরা স্বর্গপুরী থেকে এসেছি আমরা হলাম দেবতা রাজা আর দেবতা রানী। মিথ্যা কথা বলব না, যে মৃত্তিকা নিয়ে আনতে পারবে, তার সাথে আমরা আমাদের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে জামাই করবো এবং আমাদের অর্ধেক রাজ্য তাকে প্রদান করবো। শুনে আনন্দে সবাই বলতে লাগল আমি মৃত্তিকা আনতে পারবো। জলের বড় জন্তু রাঘববোয়াল বলল আমি যাব। এই বলে সে জলে ডুব দিল। সবাই রাঘব বোয়ালের অপেক্ষায় তাকিয়ে রইল। রাঘব বোয়াল মাছের অনেক বড় মুখ, অনেকগুলো মাটি কামড়ে উপরে নিয়ে আসতে লাগল। উঠে আসার সময় সব মাটি জলে ধুয়ে মুখের থেকে পড়ে গেল। মাটি নেই সে শুধু উঠে আসলো। দেবতা রাজা-রানী জিজ্ঞাসা করলেন কোথায় মাটি নিয়ে আসোনি? রাঘববোয়াল বলল নিয়ে তো আসছিলাম আসার সময় সব ধুয়ে পড়ে গেছে। দেবতারা বললেন তবে আর কে আনতে পারবে? তখন কুমির বলল আমি আনতে পারব। ঠিক আছে যাও তবে। কুমির জলে ডুব দিল।

 তারও বিশাল বড় মুখ আর অনেক বড় বড় দাঁত দিয়ে মাটি কামড়ে উপরে উঠে আসতে লাগল। কিন্তু তার মুখ থেকেও অর্ধেক রাস্তাতেই মাটি ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল। উপরে উঠে আসতে দেবতারা জিজ্ঞাসা করলেন কোথায় মাটি? কুমির বলল নিয়ে আসছিলাম কিন্তু কি করে তা অর্ধেক রাস্তাতেই সব মাটি পড়ে গেল। দেবতা রাজা রানী বললেন আর কে তবে মাটি আনতে পারবে? কচ্ছপ বলল আমি আনতে পারব। দেবতারা বললেন তারা দুজনে আনতে পারল না তুমি কি করে আনবে।

কচ্ছপ বলল আমি সব মাটি পিঠে লেদে নিয়ে আসবো। ঠিক আছে তবে যাও। কচ্ছপ গিয়ে মাটি তুলে পিঠে করে নিয়ে আসতে লাগলো। কিন্তু তারও সব মাটি অর্ধেক রাস্তাতেই ধুয়ে পড়ে গেল। আবার দেবতা রাজা-রানী জিজ্ঞাসা করলেন কোথায় মাটি নিয়ে আসলে না যে? কচ্ছপ বলল নিয়ে তো আসছিলাম আসার সময় অর্ধেক রাস্তাতেই তা ধুয়ে পড়ে গেল। দেবতা রাজা রাণী বলল ওরা তো কেউ আনতে পারল না, তাহলে আর কে নিয়ে আসতে পারবে?

কাঁকড়া বলল আমি মৃত্তিকা আনতে পারব। আমার দশটা হাত পা আছে সব মাটি জড়িয়ে ধরে তুলে আনব। দেবতারা বললেন ঠিক আছে যাও তবে। কাঁকড়া জলে ডুব দিল আর জলের নিচে গিয়ে মাটি জড়িয়ে ধরে উপরে উঠে আসতে লাগলো। কিন্তু তারও অর্ধেক রাস্তাতেই সব মাটি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে গেল। কাঁকড়াও উপরে মাটি তুলে আনতে পারল না। আর কে বাকি থাকল। কেঁচো বলল আমি মৃত্তিকা আনতে পারব। কিন্তু কার উপরে কোথায় মৃত্তিকা রাখবেন ভেবে রাখুন। এই বলে সে তার মুখের দিকটা নিয়ে গেল জলের নিচে আর পিছনের দিকটা রয়েছে জলের উপরে দেবতা রাজা-রানী আলোচনা শুরু করলেন কোথায় মৃত্তিকা রাখা হবে। একজন বললেন পদ্ম পাতার উপরে আর একজন বললেন কচ্ছপের পিঠের উপরে মাটি রাখবেন। কেঁচো জলের উপরে মাটি তুলে আনল। কেউ কেউ বলেন পদ্ম পাতার উপরে, আবার কেউ কেউ বলেন কচ্ছপের পিঠের উপরে মাটি তুলে রেখেছিল। এই জন্যই লোকে বলাবলি করে পৃথিবীতে যখন ভূমিকম্প হয় তখন নাকি কচ্ছপ টা নড়াচড়া করে। ওই জন্যই এরকমটা ঘটে তখন ভূমিকম্প হয় ।সে যাই হোক, কেঁচো মাটি তুলে উপরে উঠে আসলো। এবং দেবতাদের বলল আমি আমার কথা রেখেছি, এবার আপনারা আপনাদের কথা মতো আপনাদের মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিন আর অর্ধেক রাজ্য প্রদান করুন। দেবতারা বললেন এখন বিয়ে দেব না কার্তিক মাস আসুক তখন বিয়ে দেবো। কেঁচো বলল ঠিক আছে তবে তাই হবে। দেবতারা খুব চালাক ছিল, তারা জানেন কার্তিক মাসে রাস্তাঘাট সব শুকনো থাকে।রাস্তায় অনেক ধুলো বালি থাকে। তখন কেঁচো ধুলো বালিতে জড়াজড়ি হলে আর আমাদের পাশে আসতে পারবে না। সুতরাং কার্তিক মাস আসতেই কেঁচো বিয়ে করার জন্য রাস্তায় রাস্তায় যাওয়া শুরু করলো স্বর্গের উদ্দেশ্য। কিন্তু রাস্তার ধুলাবালিতে সে জড়িয়ে গেলো। তখন সে আর দেবতাদের কাছে পৌঁছাতে পারল না। তাই তার আর বিয়ে করা হলো না। বাকিটা ২য় পর্বে------------- ।

English translate:- 

The original words of the god "Karam"

Many, many years ago, there was no soil in this world. There was only water and water all over the world.

The king and queen of Swargapuri were talking to each other.Let's go to see if there is soil under it. They came down into the water from top to bottom in the form of ducks. He took the water and turned around to look for the soil. But found no trace of soil anywhere. Then he stood in one place and said that he could not find soil anywhere, only water and water all around. The god king said let's go back to heaven.The goddess of heaven said don't go. I will call those who live in this water and ask them whether there is soil under this water or not. And if there is, I will ask them who can bring the soil. He called all those who were in the water. Hearing the call, raghabboyal, crocodile, tortoise, crab and earthworm came out of the water. They all together asked the god Raja Rani to tell us what he had called us for. The gods said, "Well, you stay in this water. You know everything about water." It is said that there is no soil under this water. Hearing this, everyone said together that there is soil under this water. The king and queen of the gods of heaven said who can bring soil on this water. They all said tell me what gift you would actually give them with the soil. They will bring soil. Then the god king queen took their real form and said we have come from Swargapuri we are god king and god queen. I will not lie, we will marry our daughter to the one who can bring the soil and give her half of our kingdom. Everyone was happy to hear that I can bring soil. Raghab boyal, the big beast of water, said I will go. Saying this, he dived into the water. Everyone was waiting for Raghav Boal. Raghab boal fish big mouth, a lot of soil bite began to bring up. When he got up, all the soil was washed away in the water and fell from his mouth. There is no soil, he just came up. The king and queen asked where the soil was not brought?  Raghabboyal said I was coming with everything was washed away when I came. The gods said, but who else can bring?  Then the crocodile said I can bring it. All right, go, though. The crocodile dived into the water. He also had a big mouth and a lot of big teeth and started coming up biting the ground. But even half of the road was washed and cleaned from his mouth. The gods asked, "Where is the ground?" The crocodile said I was bringing it but how could it fall all the way half way. The god king queen said who else can bring soil?  The tortoise said I can bring it. The gods said they could not bring the two of you how to bring. The tortoise said I would bring all the soil on my back. All right, go.  The tortoise went and picked up the soil and brought it back. But all his soil was washed away half the way. Again the god king-queen asked where the soil is not actually that? The tortoise said I was coming with it, but when I came, it was washed half way. The god king and queen said they could not bring anyone, then who else can bring? The crab said I could bring the soil. I have ten arms and legs, I will embrace all the soil and bring it up. The gods said okay but go. The crab dived into the water and went under the water, embracing the ground and coming up. But halfway through, all the soil was washed away.  Even the crab could not lift the soil on top. And who was left. The earthworm said I can bring soil. But think about where to put the soil on the car. Saying this, he took the side of his face under the water and the back side is above the water. One said put the soil on the lotus leaf and another said put the soil on the back of the tortoise. The earthworm lifted the soil above the water. Some say it was on a lotus leaf, others say it was on the back of a tortoise. This is why people say that when there is an earthquake on the earth, the tortoise moves. That's why when this happens, there is an earthquake. Anyway, the earthworm lifted the soil and came up.  And the gods said I have kept my word, now you marry your daughter to me as you say and give half the kingdom. The gods said I will not get married now, I will get married in the month of Kartik. The earthworm said okay but so be it. The gods were very clever, they know that in the month of Kartik the roads are all dry. There is a lot of dust and sand in the roads. Then the earthworm will not be able to come to our side if the dust is wrapped in sand. So as soon as the month of Kartik came, the earthworms started going to the streets to get married. But he got entangled in the dust of the road. Then he could no longer reach the gods. So she was not married anymore. The rest is in the next part.


 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ই, উ, উঁ, এ, এঁ এর ব্যবহার। --- মুন্ডারী অভিধান // Mundari dictionary//mundari abhidhan//Mundari sabdartha

 Mundari to Bengali translate               Mundari to Bengali dictionary                    !! ই !! ইতু -- শিখা। ইদুচা -- কে জানে, কি জানি। ইদাং – কিছু করার আগে। সকালে। ইসকির – মালিশ । ইদি -- নিয়ে যাওয়া। ইদি -- আউ -- নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা। ইদি রুওয়াড় – আউ রুওয়াড় -- নিয়ে গেছে, আবার নিয়ে আসা (অষ্টমঙ্গলা)। ইদিছাবা -- নিয়ে শেষ করে দেওয়া। ইদিতুকা -- পৌঁছে দেওয়া। ইদির -- সবসময় লাগাতার। এনদেরে – আগামী তিনদিনের পর চতুর্থদিন। (গাপা,মেয়াং, তেরে, এনদেরে) ইঁদি --- ইঁদ পরব। ইঁদি পিড়ি –ইঁদ মেলার মাঠ। ইনুং --  খেলা। ইঁদিখুণ্টা -- ইঁদ কাঠের খুঁটি। ইপিড় পিয়ুং -- তারাখসা। ইবিল -- ঘন। ইম -- কলিজা। ইমতাং -- তখন। ইঞাম –কাঁদা। ইর -- কাস্তে দিয়ে কাটা। ইসু সাগিং -- অনেক দূর। ইরাল –আট (সংখ্যা) ইরাল সা – আটবার। ইরিউল –স্বামীর ছােট ভাই, ছােট বােন। ইরেন – ধান কাটতে গিয়ে হাত কেটে যাওয়া। ইলি –হাঁড়িয়া ইলি আকিদ্ -- হাঁডিয়া বসানাে। ইলি চিপা -- হাঁড়িয়াকে জল দিয়ে বানান...

সারুল পূজা বা বা বঙ্গা

 "বা বঙ্গা" বা 'সারুল ' পূজা সাধারণত ফাল্গুন চৈত্র মাসে হয়। পূজার নির্দিষ্ট কোন দিন নেই তবে শাল গাছের যখন ফুল আসে, নতুন পাতা হয়, গাছে মহুল আসে এবং আম গাছে আম ফলে ওই সময় পূজা হয়। আগে গ্রামের 'দেহুরি' 'গরাম' থানে পূজা দেয়। তারপর বাড়িতে পূজা হয়। ঘরের ভিতরে 'হাড়াম বুড়ি' দের (পূর্বপুরুষদের) উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়া হয়। নতুন শাল ফুল, শালপাতার উপর আম, মহুল, ফুল শালপাতা তে দেওয়া হয়। পরে উঠোনে আবার পূজা করা হয়। ওখানে একটি 'হড়ে' কালটি ('কুড়থি' মুরগি) বলি দেওয়া হয়। যারা ফাগুন মাসে পূজা করতে পারে না তারা অবশ্যই চৈত্র সংক্রান্তির দিন "বা বঙ্গা" বা 'সারুল' পূজা করে। পূজার দিন গোটা বিরির ডাল রান্না করা হয়। 'হারলু' শাক এক রকমের শাক পাওয়া যায় সেই শাক বিরির ডালের সঙ্গে মেশানো হয়। এছাড়া কোথাও কোথাও "দিশুম বা বঙ্গা" অনুষ্ঠান পালিত হয়। পূজার দিন দল বেঁধে নারী-পুরুষ সবাই মিলে শাল ফুল আনতে জঙ্গলে যায়। পূজা কমিটির সভাপতি শাল গাছের নিচে পূজা করে। শাল ফুলের ডালা কেটে মিছিল সহকারে ধামসা মাদল বাজিয়ে...

বাঁধনা পরব বা 'সহরাই বঙ্গা' আদিবাসীদের উৎসব।

 'বাঁধনা' বা 'সহরাই বঙ্গা'  : -- বাঁধনা পরব বা সহরাই বঙ্গা হলো মূলত ঘরের গো মহিষাদির পূজা। এই পূজা কার্তিক মাসের অমাবস্যাতে হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন অর্থাৎ অমাবস্যা তিথি পড়লেই গরুগুলোর সিঙে তেল মাখানো হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন "গঠ" পূজা। "গঠ" মানে যেখানে গ্রামের সমস্ত গরুকে সকালবেলা জোড়ো করা হয়। গ্রামের সবাই একটি করে মুরগি, আতপ চাল, সিন্দুর নিয়ে পূজা স্থানে আসে। গ্রামের 'দেহুরি' পূজা করে। পূজা শেষে সমস্ত মুরগিকে ওখানে বলি দেওয়া হয় পূজা শেষ হলে সমস্ত মুরগির মাংস রান্না করে, খিচুড়ি হয়। সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘরে এসে ধামসা মাদল বার করে প্রত্যেক বাড়িতে গরু জায়গাতে ('জারগা') যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরের গোয়াল ঘরের দুয়ারে সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সবাই দল বেঁধে গান করতে করতে গরু জাগরণ করে। জাগরণ গান :-- রেইরেরে রেইরেরে রেইরেরে রেরে হো  রেই রেরে রেরে রেরে রেরে হো   পৌঁছাইতে পৌঁছাইতে কার্তিক মাস হো  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  হরিওরে  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  না গাইয়া কাঁদবে না গাইয়া হিঁজরবে   কিনি দিব সোনেকেরি...

গরাম পূজা

 আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরাই সাধারণত এই "গরাম" পূজা করে থাকে। যেমন মুন্ডা, সাঁওতাল, কোল, কড়া, মাহাতো ইত্যাদি। মুন্ডা জনজাতিরা "গরাম" পুজা কিভাবে করে। মুন্ডারা মাঘ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধরে। পয়লা মাঘের দিন সকালে প্রত্যেক বাড়িতে গুরুজনদের পা ধুইয়ে দেওয়া হয়। ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে এবং বউরা পা ধুয়ে দেয় এবং গুরুজনেরা আশীর্বাদ করে। মাঘ পূজা :- 'মাঘ পূজা' মাসের যেকোনো শনিবার অথবা মঙ্গলবার দিন গ্রামের মাথায় পা মধ্যে পূজা করা হয়। পূজার দিন ভোর সকালে প্রত্যেক বাড়ি থেকেই "জুগিনি" ছাড়তে যাওয়া হয়। গ্রামের দক্ষিণ দিকে ফাঁকে কোন একটি ঝোপ ঝাড়ে এই "যুগিনি" দেবীর পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় বাসি ভাত-তরকারি, সিন্দুর, ধুপ, একটা কালো মুরগি বাচ্চা, ভাঙ্গা কুলো, ঝুড়ি, এবং একটি মুড়ো ঝাঁটা। বাড়ি থেকেই মুড়ো ঝাঁটাটি টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে "যুগিনি" ছাড়া হবে সেখানে পর্যন্ত। গ্রামের সবাই সেখানে উপস্থিত হলে "দেহুরি" "যুগিনি" দেবীর পূজা করেন। এবং মুরগির বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ...

Mundari to Bengali meaning || Mundari to Bengali dictionary || Mundari to Bengali translate || মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্য।

 Mundari to Bengali translate  মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার। ইং — আমি। আলিং – আমরা দুজন। আলে -- আমরা অনেকে। ইঞাঃ – আমার। আলিঞাঃ – আমাদের দুজনের। আলেয়াঃ – আমাদের সকলের। আঞকে – আমাকে। আলিংকে – আমাদের দুজনকে। আলেকে -- আমাদিগকে। আম্ -- তুমি। আবেন -- তােমরা দুজনে। আপে -- তােমরা সকলে। আমাঃ -- তােমার। অবেনাঃ -- তােমাদের দুজনে। আপেয়াঃ -- তােমাদের সকলের। আমকে -- তােমাকে। আবেনকে -- তােমাদের দুজনকে। আপেকে -- তােমাদিগকে। আএ -- সে। আকিন – তারা দুজনে। আক -- তাহারা। আয়াঃ — তার। আকিনাঃ -- তাদের দুজনের। আকওয়াঃ — তাহাদের। আএ কে -- তাকে। আকিনকে -- তাদের দুজনকে। আককে – তাহাদিগকে। নিকুঃ -- ওরা। নিকুঃগে -- ওরাই। নিকুয়াঃ গে – ওদেরই। এঁগাঞ -- আমার মা। আপঞ – আমার বাবা। এঁগাম্ -- তােমার মা। আপম্ -- তােমার বাবা। এঁগাতেদ্ — তার মা। আপতেদ্ -- তার বাবা। হঁজারিং – শ্বশুর (আমার) হানারিং – আমার শ্বাশুড়ি। ইঁজার মে – তােমার শ্বশুর। হানার মে -- তােমার শ্বাশুড়ি। হঁজারতেদ্ -- তার শ্বশুর। হানারতেদ্ – তার শ্বাশুড়ি। বাউ হঁজারিং – তােমার ভাসুর। । আজ...

মুণ্ডাদের মাতৃভাষা হারিয়ে যেতে বসেছে !!!

 ভারতের শিক্ষিত মানুষেরা গবেষণা করে দেখেছেন মুন্ডারাই নাকি ভারতের আদিম আদিবাসী। মুন্ডাদের সংস্কৃতিই নাকি ভারতের আদি সংস্কৃতি। কিন্তু আজ বহির্বিশ্বের পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ঘূর্ণিঝড়ের মতো এসে মূল মঞ্চ থেকে সরিয়ে অন্য মঞ্চে বসিয়ে দিয়েছে। শুধু মুন্ডা সংস্কৃতি নয় ভারতের সংস্কৃতিকেও আজ অন্য মঞ্চে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পারিনি কখন কিভাবে এমনটা ঘটে গেছে। সংস্কৃতির সাথে সাথে আমরা মুন্ডারা নিজেদের ভাষা ও ভুলে যেতে বসেছি। নিজেদের ভাষায় কথা না বলে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলছি। যারা মুন্ডারী ভাষা জানি না তারা বড় হলে বলে 'মা বাবা ছোট বেলায় মুন্ডারী ভাষা শিখাইনি। এখন কি করে মুন্ডারী ভাষায় কথা বলব'। এটা খুবই সত্যি কথা ছোটবেলায় মা বাবা যদি কথা বলতে না শিখায় তাহলে শিশু শিখবে কি করে। কারণ মা হচ্ছে শিশুটির কাছের মানুষ। মা প্রথম শিশুটিকে কথা বলতে শিখায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনকার দিনের মুন্ডা পরিবারের মায়েরা মুন্ডারী ভাষা জানা সত্ত্বেও শিশুটিকে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলতে শেখাচ্ছে। শিশু বয়সেই যদি আমরা শিশুদের দিকু ভাষায় কথা বলতে শিখাই তাহলে সেই শিশুরা বড় হলে দিকুতেই কথা বলব...

'লগ্ন ধরা' "আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 2

  আজকের পর্ব হলো 'লগ্ন ধরা' :- যেদিন লগ্ন ধরা হয় সেদিন পাত্রর বাড়ি থেকে "দুতামদার" সহ তিন থেকে পাঁচজন যায়। বাকি যে চার আনা পণ বাকি ছিল সেটা পাত্রীপক্ষের হাতে তুলে দেয়। এবং বিয়ে বাড়ির লগ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিয়ে বাড়ি সাধারণত ফাগুন মাসেই হয়। ঐ মাসে সম্ভব না হলে বৈশাখ অথবা আষাঢ় মাসে করা হয়। লগ্ন ধরার পর পাত্রপক্ষ পাত্রীপক্ষ কে সুপারি দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ করে। পাত্রীপক্ষও পাত্রপক্ষকে সুপারি দিয়ে নিমন্ত্রণ করে। মুন্ডাদের বিয়েতে আত্মীয়দের সুপারি দিয়েই নিমন্ত্রণ করা হয়।বিয়ের দিন সমস্ত নতুন কাপড়কে কাঁচা হলুদ বেটে রং করা হয়। বিয়ে বাড়ির সময় হলুদ কাপড়ের গন্ধে সারা বিয়ে বাড়ি ম-ম গন্ধ করতে থাকে। কাপড় হলুদ করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। ফাগুন মাস হচ্ছে বসন্তকাল অনেক কুটুম বন্ধুর আনাগোনা। হলুদ হচ্ছে জীবাণুনাশক। কোন রোগ জীবাণু যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্য নতুন কাপড় রং করা হয়। বিয়ের আগের দিন সকালবেলা "ডাঙ্গুয়া বাইরুওয়াড়" করা হয়। বরকে ওঝা বা গুনিন গ্রামের বাইরে মাঠে উই ঢিলার নিচে পূজা করে এবং ছেলেকে সৎ সাহসী ও কর্মঠ হওয়ার উপদেশ দেয়। ঐরূপ মেয়ের ব...

মুণ্ডারা মানুষ 'মারা' গেলে কি করে ?

মৃত্যু :- মুণ্ডা পরিবারের কারও মৃত্যু হলে মৃত্যু ব্যক্তিকে উঠানে বার করে জল দিয়ে তার মুখমন্ডল ভালোভাবে ধুয়ে তেল হলুদ মাখানো হয়। ওখানে উপস্থিত সকলেই মাখায় এবং মৃত ব্যক্তি পর পারে যাওয়ার জন্য যার যতটুকু সামর্থ্য টাকা পয়সা দেয়। শ্মশানে যাওয়ার আগে মৃত ব্যক্তির হাতে ধান দিয়ে তিনবার মাথার পিছন দিকে ছিটানো হয়। এর কারণ মৃত ব্যক্তির সাথে অর্জিত সম্পদ যেন না যায়। সধবা মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামী তার হাতের শাঁখা ভেঙ্গে দেয় এবং তার দেওয়া লোহার খাড়ু খুলে নেয়। স্ত্রী বর্তমানে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর হাতের শাঁখা তার দেওরেরা ভেঙ্গ দেয়। তার পর হরিবোল ধ্বনি দিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের সামর্থ্য থাকে তারা খোল কত্তাল সহকারে শ্মশানে নিয়ে যায়। যে স্থানে দাহ করা হবে সেখানে প্রথমে তিনবার ঘোরানো হয়। তারপর চিতার উপর তোলা হয়।  যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তার উত্তরাধিকারীরাই কেবল মুখাগ্নি করে। দাহ করা হয়ে গেলে তিন দিন পরে গ্রামের মা বোনেরা হাঁড়ি কলসিতে করে জল এনে আগুন নেভায়। আগুন নেভানোর পর মৃত ব্যক্তির একটি অস্থি নেওয়া হয়। অস্থিটি একটি নতুন মাটির গাঁড়ুতে রাখা হয়। গাঁড়ুর মুখ...

"আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 1

  মুন্ডা সমাজের বিবাহ অনেক রীতিনীতির মধ্যে দিয়ে হয়। তাই মুন্ডাদের বিবাহ সম্পর্কে জানতে হলে তা কয়েকটি পর্বে আলোচনা করা যায়। (1) পাত্রী দেখা (2) পরিচিতি (3) লগ্ন ধরা (4) শালাভেট (5) বেদীসাল (6) কাদা খেলা (7) ফেরতি।  ' পাত্রী দেখা' :- মুন্ডা জাতি বা গোষ্ঠীর লোকেরা পাত্র খুঁজতে যায় না। পাত্রী খুঁজতে যায়। কোন কুটুম বন্ধুর মাধ্যমে পাত্রীর সন্ধান করে "দুতামদার" বা 'ঘটক' কে নিয়ে পাত্রী দেখতে যাওয়া হয়। পাত্রী পছন্দ করে ছেলের বাবা-কাকা অথবা গুরুজনেরা। পাত্রী পছন্দ হলে পাত্র দেখতে যায়। দু'পক্ষের পছন্দ হলে "তুপু চাউলি" বা গণনা করা হয়। বাড়ির বউ সকালে স্নান করে উঠানে গোবর নাতা দেয় এবং তার উপর কাঁসার বাটি ভর্তি জল রাখা হয়। ওই জলে ধর্ম দেবতার নামে একটি আতপ চাল ও গরাম দেবীর নামে একটি আতপ চাল ফেলা হয়। একজন সাক্ষী নামে একটি সরিষা সিন্দুর লাগিয়ে ওই জলে দেওয়া হয়। পাত্র পাত্রীর নামে দুটো দূর্বাঘাস বাটিতে ফেলা হয়। ওই আতপ চাল, দূর্বা এবং সরিষা বাটির জলে ঘুরতে ঘুরতে যদি এক সঙ্গে মিলিত হয় তাহলে বিবাহ সুখের হয়। বর্তমানে "তুপু চাউলি"র প্রথা প্...