সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুণ্ডারা মানুষ 'মারা' গেলে কি করে ?

মৃত্যু :-

মুণ্ডা পরিবারের কারও মৃত্যু হলে মৃত্যু ব্যক্তিকে উঠানে বার করে জল দিয়ে তার মুখমন্ডল ভালোভাবে ধুয়ে তেল হলুদ মাখানো হয়। ওখানে উপস্থিত সকলেই মাখায় এবং মৃত ব্যক্তি পর পারে যাওয়ার জন্য যার যতটুকু সামর্থ্য টাকা পয়সা দেয়। শ্মশানে যাওয়ার আগে মৃত ব্যক্তির হাতে ধান দিয়ে তিনবার মাথার পিছন দিকে ছিটানো হয়। এর কারণ মৃত ব্যক্তির সাথে অর্জিত সম্পদ যেন না যায়। সধবা মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামী তার হাতের শাঁখা ভেঙ্গে দেয় এবং তার দেওয়া লোহার খাড়ু খুলে নেয়। স্ত্রী বর্তমানে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর হাতের শাঁখা তার দেওরেরা ভেঙ্গ দেয়। তার পর হরিবোল ধ্বনি দিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের সামর্থ্য থাকে তারা খোল কত্তাল সহকারে শ্মশানে নিয়ে যায়। যে স্থানে দাহ করা হবে সেখানে প্রথমে তিনবার ঘোরানো হয়। তারপর চিতার উপর তোলা হয়। 

যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তার উত্তরাধিকারীরাই কেবল মুখাগ্নি করে। দাহ করা হয়ে গেলে তিন দিন পরে গ্রামের মা বোনেরা হাঁড়ি কলসিতে করে জল এনে আগুন নেভায়। আগুন নেভানোর পর মৃত ব্যক্তির একটি অস্থি নেওয়া হয়। অস্থিটি একটি নতুন মাটির গাঁড়ুতে রাখা হয়। গাঁড়ুর মুখটি লাল সালু দিয়ে বেঁধে বা ঢাকা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এবং যত্ন সহকারে যে স্থানে মৃত্যু হয়েছিল সেই স্থানে ঢাকা দিয়ে রেখে প্রতিদিন সেই স্থানে জল ও খাবার দেওয়া হয়। দশ দিনের দিন নদীতে বা গঙ্গায় অস্থি বিসর্জন করা হয়। এখন অনেকে দাহ করার পর আগুন নিভিয়ে সঙ্গে সঙ্গে অস্থি বিসর্জন দেয়। বিসর্জনের জন্য একটি নতুন গামছা, একটি কাঠের পিঁড়ি, সিন্দুর এবং চালগুঁড়ি ও 'হাঁড়িয়া রসি' লাগে। বাড়ির মা বা বউ এর মৃত্যু হলে তার অস্থি বহন করে তার বাপের বাড়ির লোক। আর কোন পুরুষ মানুষ মারা গেলে তার বংশের লোক অস্থি বহন করে বিসর্জন দেয়। কোন ছোট ছেলে বা মেয়ের মৃত্যু হলে তাদের দাহ করা হয় না। কবর দেওয়া হয়। তিনদিনের দিন তিতা মিঠা খাওয়া হয়। এই খরচ মামার বাড়ি বহন করে। যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তার বংশের সবাই তিতান্ন খাবে। ওই দিন হইতে শ্রাদ্ধের দিন পর্যন্ত গ্রামের মাথায় বা চকে প্রতিদিন দুপুর এবং রাত্রে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে ভাত দিয়ে আসা হয়। তিতান্ন খাবার পরের দিন থেকে আত্মীয়-বন্ধুদের মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়। 10 দিনে শ্রাদ্ধ করা হয়। ধোপা ডেকে বংশের কাপড় কাচা হয়। নাপিত ছেলেদের মাথা ন্যাড়া করে এবং নখ কেটে দেয়। মেয়েদের ও নাপিত নখ কেটে দেয়। ঘাটে স্নান করার পর আত্মীয়-স্বজন ঘাটে যারা উঠেছে তাদের নতুন কাপড় দেয়। অনেকে টাকা দিয়ে সাহায্য করে। ঘাট থেকে এসে ওই দিনই ব্রাহ্মণ দিয়ে শ্রাদ্ধের কাজ করানো হয়। ব্রাহ্মন দ্বারা মন্ত্রপুনঃ তেল যারা শ্মশান যাত্রী ছিল এবং অন্যান্যদের কাঁধে তেল দেওয়া হয় তার সাথে তুলসী জল ছিটানো হয়। এটাকে "কাঁধকাটি" বলে। 'কাঁধকাটি' হওয়ার পর সবাইকে খাওয়ানো হয়।

আত্মা ডাকা ("উঁবুল রাঃআ") :-

শ্রাদ্ধ শেষ হলে গভীর রাতে বাড়ির বড় ছেলে ও ছোট ছেলে হাতে একটি নতুন ঝুড়ি তাতে একটি প্রদীপ জ্বালানো থাকে, সঙ্গে আরও দু'জন লোক তাদের একজনের হাতে দুটি লোহা থাকে। গ্রামের মাথায় যায়। ওখানে বড় ছেলে ডাকে 'বাবা তুমি কোথায় আছো যেখানেই থাকো আমি তোমাকে ডাকতে এসেছি এসো' এইভাবে তিনবার ডাকার পর লোহা দুটি টং টং বাজিয়ে বাজিয়ে ঘরে ফিরে আসে। ওই সময় বাড়িতে যারা থাকবে তারা দরজা বন্ধ করে সবাই চুপচাপ বসে থাকে। ঘরে একটি মাত্র আলো জ্বলতে থাকে। বাইরে যারা গেছে তারা এসে দরজায় টোকা দেয়। তখন ঘরের ভিতর থেকে জিজ্ঞাসা করে 'কে?' তখন তারা উত্তর দেয়-- 'দুঃখ নিয়ে গিয়েছিলাম এখন সুখ নিয়ে এসেছি' এই ভাবে তিনবার প্রশ্ন উত্তর হওয়ার পর দরজা খুলে দেওয়া হয়। নতুন ঝুড়ি প্রদীপ ঘরের ভিতরে রাখা হয়। ওখানে পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মৃত ব্যক্তিকে মিলিত করার উদ্দেশ্যে পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ সিদ্ধ চাল ও একটি মুরগি পূজা করা হয়। সেই মুরগির মাংস বংশের সবাইকে খাওয়ানো হয়। তারপর থেকে সবাই আমিষ খাবে। গত 10 দিন বংশের সবাই নিরামিষ খাচ্ছি এটাকে 'আঁইসকুটা' বলে।

হরিবোল ভাত ('হরিবোল মাডি') :-

পরের দিন সূর্য উদয়ের আগে ঊষালগ্নে হরিবোল ভাত দেওয়া হয়। ভাত এবং বিরির ডাল মাখিয়ে চারটি ভাতের গোলা তৈরি করা হয়। যে শ্রাদ্ধ কাজে অংশ নিয়েছিল সেই ছেলে ওই গোলাগুলি ত্রিভূজ আকারে রাখে এবং চতুর্থ গোলাটি মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দেয়। এক ঘটি জল নিয়ে ভাতের গোলাটির উপর দুবার দিয়ে তৃতীয়বার ঘটি উবুড় করে দেয়। এরপর বংশের যে কেউ ওই ভাত আগে খায়। তারপর সবাই খায়। যে ব্যক্তি আগে খায় তাকে একটি নতুন কাপড় দেওয়া হয়। এবং সেই ব্যক্তি ঐ খাবার স্থান পরিষ্কার করে।

পুনরায় কুটুম করা ('কুন্টাম' বা 'পেড়ারুয়াড়') :-

মুন্ডা পরিবারে কোনো বধু মারা গেলে শ্রাদ্ধের পরের দিন মৃত মহিলার বাপের বাড়ির সবাইকে নতুন কাপড় সঙ্গে চাল, ডাল, তরিতরকারি এবং একটি মুরগী দিয়ে বিদায় করা হয়। তাদের সঙ্গে আত্মীয়তা রাখার জন্য গ্রামের মাথা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। ওরা গ্রামের কারো বাড়িতে উঠে এবং ওখানে মুরগি মেরে রান্না করে। খাওয়া দাওয়ার পর তাদের আবার ঘরে নিয়ে এসে যত্নসহকারে আপ্যায়ন করা হয়। ওই দিন রাত্রি যাপন করে। প্রবাদ আছে-- 'বিয়ের সময় যখন মেয়েকে বরপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয় তখনই বরপক্ষকে বলে দেওয়া হয় তোমাদের হাতে মেয়েকে তুলে দিলাম যাই করো মাংসের ভাগীদার তোমরা আর হাড় আমাদের'। "যেতাঃ গেপে চেকাগিঃ আলেয়াঃদ জাংসঁগে ভাগি"। আত্মীয়তা যাতে না ভেঙ্গে যায় সেই কারণেই এই অনুষ্ঠান করা হয়।

English translate:- 

What do Mundara people do when they 'die'?


Death: -

If any member of the Munda family dies, the deceased is taken out of the yard and his face is thoroughly washed with water and oiled with yellow oil. Everyone present pays as much money as they can to go after the dead person. Before going to the crematorium, the dead person is sprinkled with rice in the back of the head three times. This is because the wealth acquired with the deceased should not go. When the nun dies, her husband breaks the shell and removes the iron bar. When the wife is now the husband's death, the conch of the wife's hand is broken by her deors. After that they were taken to the crematorium with the sound of Haribol. Those who can afford it are taken to the crematorium with open slaughter. The place where the cremation will take place is first rotated three times. Then the cheetah is lifted. Only the heirs of the person who died face to face. Three days after the cremation, the mothers and sisters of the village put water in a pot and put out the fire. After extinguishing the fire a bone of the deceased was taken. The bone is placed in a new clay pot. The rhino's mouth is tied with a red salu or covered and brought home. And the place where the death took place was carefully covered and water and food were given to that place every day. The bones are dumped in the river or in the Ganges for ten days. Now many people put out the fire after burning and immediately give up the bones. The abandonment requires a new towel, a wooden peg, vermilion and rice husks and a 'pot rope'.  When the mother or wife of the house dies, his bones are carried by the man of his father's house. And when a man dies, his descendants carry the bones and give them up. If a young boy or girl dies, they are not cremated. Is buried. 'Tita' is eaten sweet for three days. This cost is borne by Mama's house. All the descendants of the person who died will eat 'Titanna'. From that day till the day of Shraddha, rice is brought to the head of the village every day at noon and night for the purpose of the deceased.  The death of relatives and friends was reported from the day after the meal.  Shraddha is performed in 10 days. The clothes of the family are washed by washing. The barber shaves the boys' heads and cuts their nails. The girls and the barber cut the nails. After bathing in the ghat, relatives give new clothes to those who have risen in the ghat. Many help with money. Coming from the ghat, shraddha was performed by Brahmins on the same day. Mantra Pun oil by Brahmins Tulsi water is sprinkled with cremation passengers and others are given oil on their shoulders. This is called "shoulder cutting".  After the 'shoulder cut', everyone is fed.


 Calling the soul ("Umbul Ra'a"): -

At the end of the shraddha, in the middle of the night, the eldest son and the youngest son of the house carry a new basket with a lamp in it, along with two other people, one of whom has two irons in his hand.  Goes to the head of the village. The eldest son called out, "Dad, where are you? Wherever you are, I have come to call you." Those who were at home at that time closed the door and all sat quietly.  There is only one light in the room. Those who went outside came and knocked on the door. Then he asked from inside the room 'Who?'  Then they answer-- 'I took the sorrow and now I have brought the happiness'. After answering the question three times in this way, the door is opened. The new basket lamp is kept inside the house. There is worship for the purpose of reuniting the dead with the ancestors.  Ingredients of worship are cooked rice and a chicken. That chicken meat is fed to everyone in the family. From then on, everyone will eat meat. For the last 10 days, everyone in the family has been eating vegetarian food.It is called 'Aiskuta'.


 'Haribol Bhat' ('Haribol Madi'): -

Haribol rice is served at dawn the next day before sunrise. Four rice balls are made by mixing rice and biry dal. The boy who took part in the shraddha put the bullets in the shape of a triangle and gave the fourth bullet to the dead person. He took a jug of water and poured the jug over the rice ball twice for the third time. Then anyone in the family eats that rice first. Then everyone eats. The person who eats first is given a new cloth. And that person cleans that dining area.


 Reunite ('Kuntam' or 'Peraruar'): -

When a bride dies in the Munda family, the next day after the shraddha, everyone in the dead woman's father's house is bid farewell with new clothes, rice, pulses, vegetables and a chicken. They were brought back from the head of the village to maintain kinship with them. They went to someone's house in the village and cooked chicken there. After eating, they are brought back home and treated with care.  He spends the night that day. There is a proverb - 'When the girl is handed over to the bridegroom at the time of marriage, the bridegroom is told to hand over the girl to you. "Yetah Gepe Chekagih Aleyaud Jangsang Bhagi". This ceremony is done so that the kinship is not broken.



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ই, উ, উঁ, এ, এঁ এর ব্যবহার। --- মুন্ডারী অভিধান // Mundari dictionary//mundari abhidhan//Mundari sabdartha

 Mundari to Bengali translate               Mundari to Bengali dictionary                    !! ই !! ইতু -- শিখা। ইদুচা -- কে জানে, কি জানি। ইদাং – কিছু করার আগে। সকালে। ইসকির – মালিশ । ইদি -- নিয়ে যাওয়া। ইদি -- আউ -- নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা। ইদি রুওয়াড় – আউ রুওয়াড় -- নিয়ে গেছে, আবার নিয়ে আসা (অষ্টমঙ্গলা)। ইদিছাবা -- নিয়ে শেষ করে দেওয়া। ইদিতুকা -- পৌঁছে দেওয়া। ইদির -- সবসময় লাগাতার। এনদেরে – আগামী তিনদিনের পর চতুর্থদিন। (গাপা,মেয়াং, তেরে, এনদেরে) ইঁদি --- ইঁদ পরব। ইঁদি পিড়ি –ইঁদ মেলার মাঠ। ইনুং --  খেলা। ইঁদিখুণ্টা -- ইঁদ কাঠের খুঁটি। ইপিড় পিয়ুং -- তারাখসা। ইবিল -- ঘন। ইম -- কলিজা। ইমতাং -- তখন। ইঞাম –কাঁদা। ইর -- কাস্তে দিয়ে কাটা। ইসু সাগিং -- অনেক দূর। ইরাল –আট (সংখ্যা) ইরাল সা – আটবার। ইরিউল –স্বামীর ছােট ভাই, ছােট বােন। ইরেন – ধান কাটতে গিয়ে হাত কেটে যাওয়া। ইলি –হাঁড়িয়া ইলি আকিদ্ -- হাঁডিয়া বসানাে। ইলি চিপা -- হাঁড়িয়াকে জল দিয়ে বানান...

সারুল পূজা বা বা বঙ্গা

 "বা বঙ্গা" বা 'সারুল ' পূজা সাধারণত ফাল্গুন চৈত্র মাসে হয়। পূজার নির্দিষ্ট কোন দিন নেই তবে শাল গাছের যখন ফুল আসে, নতুন পাতা হয়, গাছে মহুল আসে এবং আম গাছে আম ফলে ওই সময় পূজা হয়। আগে গ্রামের 'দেহুরি' 'গরাম' থানে পূজা দেয়। তারপর বাড়িতে পূজা হয়। ঘরের ভিতরে 'হাড়াম বুড়ি' দের (পূর্বপুরুষদের) উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়া হয়। নতুন শাল ফুল, শালপাতার উপর আম, মহুল, ফুল শালপাতা তে দেওয়া হয়। পরে উঠোনে আবার পূজা করা হয়। ওখানে একটি 'হড়ে' কালটি ('কুড়থি' মুরগি) বলি দেওয়া হয়। যারা ফাগুন মাসে পূজা করতে পারে না তারা অবশ্যই চৈত্র সংক্রান্তির দিন "বা বঙ্গা" বা 'সারুল' পূজা করে। পূজার দিন গোটা বিরির ডাল রান্না করা হয়। 'হারলু' শাক এক রকমের শাক পাওয়া যায় সেই শাক বিরির ডালের সঙ্গে মেশানো হয়। এছাড়া কোথাও কোথাও "দিশুম বা বঙ্গা" অনুষ্ঠান পালিত হয়। পূজার দিন দল বেঁধে নারী-পুরুষ সবাই মিলে শাল ফুল আনতে জঙ্গলে যায়। পূজা কমিটির সভাপতি শাল গাছের নিচে পূজা করে। শাল ফুলের ডালা কেটে মিছিল সহকারে ধামসা মাদল বাজিয়ে...

বাঁধনা পরব বা 'সহরাই বঙ্গা' আদিবাসীদের উৎসব।

 'বাঁধনা' বা 'সহরাই বঙ্গা'  : -- বাঁধনা পরব বা সহরাই বঙ্গা হলো মূলত ঘরের গো মহিষাদির পূজা। এই পূজা কার্তিক মাসের অমাবস্যাতে হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন অর্থাৎ অমাবস্যা তিথি পড়লেই গরুগুলোর সিঙে তেল মাখানো হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন "গঠ" পূজা। "গঠ" মানে যেখানে গ্রামের সমস্ত গরুকে সকালবেলা জোড়ো করা হয়। গ্রামের সবাই একটি করে মুরগি, আতপ চাল, সিন্দুর নিয়ে পূজা স্থানে আসে। গ্রামের 'দেহুরি' পূজা করে। পূজা শেষে সমস্ত মুরগিকে ওখানে বলি দেওয়া হয় পূজা শেষ হলে সমস্ত মুরগির মাংস রান্না করে, খিচুড়ি হয়। সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘরে এসে ধামসা মাদল বার করে প্রত্যেক বাড়িতে গরু জায়গাতে ('জারগা') যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরের গোয়াল ঘরের দুয়ারে সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সবাই দল বেঁধে গান করতে করতে গরু জাগরণ করে। জাগরণ গান :-- রেইরেরে রেইরেরে রেইরেরে রেরে হো  রেই রেরে রেরে রেরে রেরে হো   পৌঁছাইতে পৌঁছাইতে কার্তিক মাস হো  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  হরিওরে  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  না গাইয়া কাঁদবে না গাইয়া হিঁজরবে   কিনি দিব সোনেকেরি...

"করম" দেবতার আদি কথা পর্ব ১ // karam rajar kahini

  অ নেক অনেক বছর আগেকার কথা এই পৃথিবী জুড়ে মৃত্তিকার (মাটির) কোনো অস্তিত্বই ছিল না। পৃথিবী জুড়ে ছিল শুধু জল আর জল।   স্বর্গপুরীর দেবতা রাজা দেবতা রানী দুজনে কথোপকথন হচ্ছিলেন ওই নিচে মাটি আছে না নেই দেখতে যাব চলুন। তাঁরা হাঁসের রূপ ধারণ করে উপর থেকে নিচে জলেতে নেমে আসলেন। জলেতে নেবে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মাটির খোঁজ করতে লাগলেন। কিন্তু কোন জায়গাতে মাটির একটুও চিহ্ন খুঁজে পেলেন না। তারপর একটা স্থানে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন কোথাও তো মাটি খুঁজে পেলাম না, চারিদিকে শুধু জল আর জল। দেবতা রাজা বললেন চলো স্বর্গে ফিরে চলে যায় স্বর্গের দেবী রানী বললেন না যাব না। এই জলের মধ্যে কারা থাকে ওদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করব, এই জলের নিচে মৃত্তিকা আছে না নেই। আর যদি আছে তবে কে মৃত্তিকা আনতে পারবে তাদের জিজ্ঞাসা করব। এই বলে জলের ভিতরে কারা কারা আছেন তাদের সবাইকে ডাকলেন। ডাক শুনে জলের ভিতর থেকে রাঘববোয়াল, কুমির, কচ্ছপ, কাঁকড়া আর কেঁচো উঠে আসলো। তারা সবাই মিলে দেবতা রাজা রানী কে জিজ্ঞাসা করল বলুন, আমাদের কিসের জন্য ডেকেছেন।দেবতারা   বললেন আচ্ছা তোমরা তো এই জলের মধ্যে থাকো জলের সবকিছুই তোমরা জানো। ব...

গরাম পূজা

 আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরাই সাধারণত এই "গরাম" পূজা করে থাকে। যেমন মুন্ডা, সাঁওতাল, কোল, কড়া, মাহাতো ইত্যাদি। মুন্ডা জনজাতিরা "গরাম" পুজা কিভাবে করে। মুন্ডারা মাঘ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধরে। পয়লা মাঘের দিন সকালে প্রত্যেক বাড়িতে গুরুজনদের পা ধুইয়ে দেওয়া হয়। ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে এবং বউরা পা ধুয়ে দেয় এবং গুরুজনেরা আশীর্বাদ করে। মাঘ পূজা :- 'মাঘ পূজা' মাসের যেকোনো শনিবার অথবা মঙ্গলবার দিন গ্রামের মাথায় পা মধ্যে পূজা করা হয়। পূজার দিন ভোর সকালে প্রত্যেক বাড়ি থেকেই "জুগিনি" ছাড়তে যাওয়া হয়। গ্রামের দক্ষিণ দিকে ফাঁকে কোন একটি ঝোপ ঝাড়ে এই "যুগিনি" দেবীর পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় বাসি ভাত-তরকারি, সিন্দুর, ধুপ, একটা কালো মুরগি বাচ্চা, ভাঙ্গা কুলো, ঝুড়ি, এবং একটি মুড়ো ঝাঁটা। বাড়ি থেকেই মুড়ো ঝাঁটাটি টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে "যুগিনি" ছাড়া হবে সেখানে পর্যন্ত। গ্রামের সবাই সেখানে উপস্থিত হলে "দেহুরি" "যুগিনি" দেবীর পূজা করেন। এবং মুরগির বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ...

Mundari to Bengali meaning || Mundari to Bengali dictionary || Mundari to Bengali translate || মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্য।

 Mundari to Bengali translate  মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার। ইং — আমি। আলিং – আমরা দুজন। আলে -- আমরা অনেকে। ইঞাঃ – আমার। আলিঞাঃ – আমাদের দুজনের। আলেয়াঃ – আমাদের সকলের। আঞকে – আমাকে। আলিংকে – আমাদের দুজনকে। আলেকে -- আমাদিগকে। আম্ -- তুমি। আবেন -- তােমরা দুজনে। আপে -- তােমরা সকলে। আমাঃ -- তােমার। অবেনাঃ -- তােমাদের দুজনে। আপেয়াঃ -- তােমাদের সকলের। আমকে -- তােমাকে। আবেনকে -- তােমাদের দুজনকে। আপেকে -- তােমাদিগকে। আএ -- সে। আকিন – তারা দুজনে। আক -- তাহারা। আয়াঃ — তার। আকিনাঃ -- তাদের দুজনের। আকওয়াঃ — তাহাদের। আএ কে -- তাকে। আকিনকে -- তাদের দুজনকে। আককে – তাহাদিগকে। নিকুঃ -- ওরা। নিকুঃগে -- ওরাই। নিকুয়াঃ গে – ওদেরই। এঁগাঞ -- আমার মা। আপঞ – আমার বাবা। এঁগাম্ -- তােমার মা। আপম্ -- তােমার বাবা। এঁগাতেদ্ — তার মা। আপতেদ্ -- তার বাবা। হঁজারিং – শ্বশুর (আমার) হানারিং – আমার শ্বাশুড়ি। ইঁজার মে – তােমার শ্বশুর। হানার মে -- তােমার শ্বাশুড়ি। হঁজারতেদ্ -- তার শ্বশুর। হানারতেদ্ – তার শ্বাশুড়ি। বাউ হঁজারিং – তােমার ভাসুর। । আজ...

মুণ্ডাদের মাতৃভাষা হারিয়ে যেতে বসেছে !!!

 ভারতের শিক্ষিত মানুষেরা গবেষণা করে দেখেছেন মুন্ডারাই নাকি ভারতের আদিম আদিবাসী। মুন্ডাদের সংস্কৃতিই নাকি ভারতের আদি সংস্কৃতি। কিন্তু আজ বহির্বিশ্বের পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ঘূর্ণিঝড়ের মতো এসে মূল মঞ্চ থেকে সরিয়ে অন্য মঞ্চে বসিয়ে দিয়েছে। শুধু মুন্ডা সংস্কৃতি নয় ভারতের সংস্কৃতিকেও আজ অন্য মঞ্চে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পারিনি কখন কিভাবে এমনটা ঘটে গেছে। সংস্কৃতির সাথে সাথে আমরা মুন্ডারা নিজেদের ভাষা ও ভুলে যেতে বসেছি। নিজেদের ভাষায় কথা না বলে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলছি। যারা মুন্ডারী ভাষা জানি না তারা বড় হলে বলে 'মা বাবা ছোট বেলায় মুন্ডারী ভাষা শিখাইনি। এখন কি করে মুন্ডারী ভাষায় কথা বলব'। এটা খুবই সত্যি কথা ছোটবেলায় মা বাবা যদি কথা বলতে না শিখায় তাহলে শিশু শিখবে কি করে। কারণ মা হচ্ছে শিশুটির কাছের মানুষ। মা প্রথম শিশুটিকে কথা বলতে শিখায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনকার দিনের মুন্ডা পরিবারের মায়েরা মুন্ডারী ভাষা জানা সত্ত্বেও শিশুটিকে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলতে শেখাচ্ছে। শিশু বয়সেই যদি আমরা শিশুদের দিকু ভাষায় কথা বলতে শিখাই তাহলে সেই শিশুরা বড় হলে দিকুতেই কথা বলব...

'লগ্ন ধরা' "আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 2

  আজকের পর্ব হলো 'লগ্ন ধরা' :- যেদিন লগ্ন ধরা হয় সেদিন পাত্রর বাড়ি থেকে "দুতামদার" সহ তিন থেকে পাঁচজন যায়। বাকি যে চার আনা পণ বাকি ছিল সেটা পাত্রীপক্ষের হাতে তুলে দেয়। এবং বিয়ে বাড়ির লগ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিয়ে বাড়ি সাধারণত ফাগুন মাসেই হয়। ঐ মাসে সম্ভব না হলে বৈশাখ অথবা আষাঢ় মাসে করা হয়। লগ্ন ধরার পর পাত্রপক্ষ পাত্রীপক্ষ কে সুপারি দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ করে। পাত্রীপক্ষও পাত্রপক্ষকে সুপারি দিয়ে নিমন্ত্রণ করে। মুন্ডাদের বিয়েতে আত্মীয়দের সুপারি দিয়েই নিমন্ত্রণ করা হয়।বিয়ের দিন সমস্ত নতুন কাপড়কে কাঁচা হলুদ বেটে রং করা হয়। বিয়ে বাড়ির সময় হলুদ কাপড়ের গন্ধে সারা বিয়ে বাড়ি ম-ম গন্ধ করতে থাকে। কাপড় হলুদ করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। ফাগুন মাস হচ্ছে বসন্তকাল অনেক কুটুম বন্ধুর আনাগোনা। হলুদ হচ্ছে জীবাণুনাশক। কোন রোগ জীবাণু যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্য নতুন কাপড় রং করা হয়। বিয়ের আগের দিন সকালবেলা "ডাঙ্গুয়া বাইরুওয়াড়" করা হয়। বরকে ওঝা বা গুনিন গ্রামের বাইরে মাঠে উই ঢিলার নিচে পূজা করে এবং ছেলেকে সৎ সাহসী ও কর্মঠ হওয়ার উপদেশ দেয়। ঐরূপ মেয়ের ব...

"আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 1

  মুন্ডা সমাজের বিবাহ অনেক রীতিনীতির মধ্যে দিয়ে হয়। তাই মুন্ডাদের বিবাহ সম্পর্কে জানতে হলে তা কয়েকটি পর্বে আলোচনা করা যায়। (1) পাত্রী দেখা (2) পরিচিতি (3) লগ্ন ধরা (4) শালাভেট (5) বেদীসাল (6) কাদা খেলা (7) ফেরতি।  ' পাত্রী দেখা' :- মুন্ডা জাতি বা গোষ্ঠীর লোকেরা পাত্র খুঁজতে যায় না। পাত্রী খুঁজতে যায়। কোন কুটুম বন্ধুর মাধ্যমে পাত্রীর সন্ধান করে "দুতামদার" বা 'ঘটক' কে নিয়ে পাত্রী দেখতে যাওয়া হয়। পাত্রী পছন্দ করে ছেলের বাবা-কাকা অথবা গুরুজনেরা। পাত্রী পছন্দ হলে পাত্র দেখতে যায়। দু'পক্ষের পছন্দ হলে "তুপু চাউলি" বা গণনা করা হয়। বাড়ির বউ সকালে স্নান করে উঠানে গোবর নাতা দেয় এবং তার উপর কাঁসার বাটি ভর্তি জল রাখা হয়। ওই জলে ধর্ম দেবতার নামে একটি আতপ চাল ও গরাম দেবীর নামে একটি আতপ চাল ফেলা হয়। একজন সাক্ষী নামে একটি সরিষা সিন্দুর লাগিয়ে ওই জলে দেওয়া হয়। পাত্র পাত্রীর নামে দুটো দূর্বাঘাস বাটিতে ফেলা হয়। ওই আতপ চাল, দূর্বা এবং সরিষা বাটির জলে ঘুরতে ঘুরতে যদি এক সঙ্গে মিলিত হয় তাহলে বিবাহ সুখের হয়। বর্তমানে "তুপু চাউলি"র প্রথা প্...