সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Mundari to Bengali meaning || Mundari to Bengali dictionary || Mundari to Bengali translate || মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্য।

 Mundari to Bengali translate 

মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার।

ইং — আমি।
আলিং – আমরা দুজন।
আলে -- আমরা অনেকে।
ইঞাঃ – আমার।
আলিঞাঃ – আমাদের দুজনের।
আলেয়াঃ – আমাদের সকলের।
আঞকে – আমাকে।
আলিংকে – আমাদের দুজনকে।
আলেকে -- আমাদিগকে।
আম্ -- তুমি।
আবেন -- তােমরা দুজনে।
আপে -- তােমরা সকলে।
আমাঃ -- তােমার।
অবেনাঃ -- তােমাদের দুজনে।
আপেয়াঃ -- তােমাদের সকলের।
আমকে -- তােমাকে।
আবেনকে -- তােমাদের দুজনকে।
আপেকে -- তােমাদিগকে।
আএ -- সে।
আকিন – তারা দুজনে।
আক -- তাহারা।
আয়াঃ — তার।
আকিনাঃ -- তাদের দুজনের।
আকওয়াঃ — তাহাদের।
আএ কে -- তাকে।
আকিনকে -- তাদের দুজনকে।
আককে – তাহাদিগকে।
নিকুঃ -- ওরা।
নিকুঃগে -- ওরাই।
নিকুয়াঃ গে – ওদেরই।
এঁগাঞ -- আমার মা।
আপঞ – আমার বাবা।
এঁগাম্ -- তােমার মা।
আপম্ -- তােমার বাবা।
এঁগাতেদ্ — তার মা।
আপতেদ্ -- তার বাবা।
হঁজারিং – শ্বশুর (আমার)
হানারিং – আমার শ্বাশুড়ি।
ইঁজার মে – তােমার শ্বশুর।
হানার মে -- তােমার শ্বাশুড়ি।
হঁজারতেদ্ -- তার শ্বশুর।
হানারতেদ্ – তার শ্বাশুড়ি।
বাউ হঁজারিং – তােমার ভাসুর। ।
আজি হানারিং – আমার বড়শালি, বড়ননদ।
বাউ হঁজারমে -- তােমার ভাসুর।
আজি হানারমে -- তােমার বড়শালি, বড়ননদ।
বাউ হঁজারতেদ্ -- তার ভাসুর।
আজি হানারতেদ্ -- তার বড়শালি, বড় ননদ।
আমাঃ নুতুম কানাঃ ? — তােমার নাম কি ?
ইঞাঃ নুতুম বিরসা – আমার নাম বিরসা।
অলঃ পড়হাও তানাম ? -- লেখাপড়া করছ ?
আমাঃ আবাঃ নুতুম কানাঃ ? -- তােমার বাবার নাম কি ?
আপে অড়াঃ অকরে ? – তােমাদের বাড়ি কোথায় ?
আমাঃ আবা মেনাগিয়া ? -- তােমার বাবা আছে ?
আয়াঃ হড়ম বুগি কাগে — তারশরীর ভাল নয়।
আবেনাঃ অড়াঃ অকারে ? – আপনার বাড়ী কোথায় ?
আকওয়াঃ অড়াঃরে যেতায় বানঃ কওয়া -- তাদের ঘরে কেউ নাই।
ইঞাম্ তানাম্ চিয়া ? – কাঁদছ কেন ?
অকয় দাল কেমাএ ? -- কে তােমাকে মারল ?
মাড়ি জমেম এলা – ভাত খাবে এসাে।
দাঃ আ মাডি কাঞাঃ – জল ভাত খাব না।
আক হাই সাবক সেনঃ জানা – ওরা মাছ ধরতে গেল।
স্কুল কাম সেনঃ তানা – স্কুল যাচ্ছ না।
অলঃ পড়হাও ইতুগেম – লেখাপড়া শিখ।
এঁগা আপ লেল কিনমে -- মা বাবাকে দেখ।
এঁগা আপওয়াঃ জাগার আয়মেম — মা বাবার কথা শুন।
লেঙ্গা তিরে কানাঃ ? -- বাঁ হাতে কি ?
শ্যামবাবু হাসু তানাএ -- শ্যামবাবুর জ্বর হয়েছে।
হাসুতে লাগা তানাএ -- জ্বরে খুব দুর্বল হয়েছে।
ইলি–আরকি আলম নু-য়া -- হাঁড়িয়া মদ খাবে না।
ইলি-আরকি নু কা বুগিয়াঃ -- হাঁড়িয়া মদ খাওয়া ভাল নয়।
আপে সবেন বুগি তাইনঃপে – তােমরা সবাই ভালাে
থাকো।
আলে বুগি মেনাঃ লেয়া – আমরা ভালাে আছি।
আপে চিল্কা মেনাঃ পেয়া?-- তােমরা কেমন আছ ?
আলে অড়াঃ সাই এলা – আমাদের ঘরের দিকে
এসাে।
তিসিং কাঞ সেনা — আজ যাবাে না।
অড়াঃ সেনাঞ – ঘর যাবাে।
অড়ঃ গাপা হিজুয়াঞ -- আবার কাল আসব।
আলম্ সেনা -- যাবে না।
তিসিং তাইনঃমে – আজ থেকে যাও।
সেনঃতে আয়ুবয়াম -- যেতে সন্ধ্যা হবে।
সিম্ গএ গিয়ালে -মুরগী মারবাে।
দিরিতে কটেঃ গএ তিয়াক -- পাথর দিয়ে ছেঁচে মেরেছে।
অকরে আঁড়দিয়া কানাম ? -- কোথায় বিয়ে করেছ ?
হন গাঁড়া চিমনাং ? -- ছেলে পুলে কজন ?
ললতে আকাল বাকাল ঠরঃ তানা – গরমে আকপাক লাগছে।
অকতেম্ সেনা ? -- কোথায় যাচ্ছ ?
আক অড়াঃ সেনঃ তানা – ওদের বাড়ি যাচ্ছি।
জওয়ার দাদা -- নমষ্কার দাদা।
চিলকা মেনাঃ বেনা -- কেমন আছেন ?
বুগি মেনাঃ লিঞা – ভালাে আছি।
আমাঃ হানার হুঁজার অকরে? -- তােমার শ্বশুর বাড়ি কোথায় ?
ইঞাঃ হানার হুঁজার মেদিনীপুররে -- আমার শ্বশুর বাড়ি মেদিনীপুরে।
চাঁড়ুঃ তুরতানা — চাঁদ উঠছে।
ইসু নিদা যানাএ — অনেক রাত হলাে।
গাপা সেতাঃ সেনাঞ -- কাল সকালে যাবাে।
ইসুগে জেটে তানা — খুব রােদ দিচ্ছে।
ইসুগে গিরসুম তানা -- খুব গরম লাগছে।
ইসুগে রাবাং তানা -- খুব শীত লাগছে।
আমাঃ জাপিদ্ হিজুঃ তানা -- তােমার ঘুম পাচ্ছে ?
?
গিতিঃমে -- শুয়ে পড়।
বিরিদ্ মে -- উঠে পড়।
আমাঃ আবা মা মেনাঃ কিনা ? -- তােমার বাবা মা আছে ?
মাসকাল এঁড়েঃ যানা – আলাে নিভে গেল।
সাগিং দিশুম আলম্ সেনা – দুর দেশে যেওনা।
হোয় গামা হিজুঃ তানা -- ঝড় বৃষ্টি আসছে।
আপে চিমিন বকবয়া ? -- তােমরা কয় ভাইবােন ?
আলে আপি হাগায়া বারিয়া মিসি — আমরা তিন ভাই দুইবােন।
আলেয়াঃ গাড়ি বানঃ – আমাদের গাড়ি নেই।
আঞ তিসিং পিইটি সেনাঞ – আমি আজ হাট যাবাে।
ইঞাঃ বার্ দাদা চাকরি তানাকিন -- আমার দু দাদা
চাকরি করে।
ইঞাঃ আবা বাবা ইর সেনা কানাএ -- আমার বাবা ধান কাটতে গেছে।
আক কামিক ছাবা কেদা -- ওরা কাজ শেষ করলাে।
ইং কামি কাঞ সেনা – আমি কাজে যাব না।
আম আলম সেনা -- তুমি যাবে না।
আএ নেরে হিঃই লেনাএ -- সেখানে এসেছিল।
আক কাক জাগার তানা – ওরা কথা বলছে না।
আবেন চিল্কা মেনাঃ বেনা ?—আপনি কেমন আছেন?
ইঞাঃ সনঃ বানঃ — আমার জামা নাই।
আক আগাড়-বাগাড়ক কাজি যাদা –ওরা ঠিক
কথা বলছে না।
পারকংরে অড়্ মএ মেনাঃ কওয়া -- খাটে ছারপােকা আছে।
আক উরিঃ আকরিং তিয়াক – ওরা গরু বিক্রি করেছে।
কারাম্ শুশুন তানাক -- করম নাচ করছে।
নিয়াদ আমাঃ ? -- এটা তােমার।
নিয়াদ ইঞাঃ বা আইঞাঃ – এটা আমার।
মাডি জম তাদাম্ ? -- ভাত খেয়েছ ?
কাএ জম তাদা -- খাইনি।
অকয় জাগার তানাপে ? -- কে কথা বলছ ?
অকয় দুরাং তানাপে? – কে গান করছে ?
অকয় দুমাং রু তানাএ -- কে মাদল বাজাচ্ছে ?
অকয় শুশুন তানাক -- কারা নাচ করছে ?
অকয় হাই সাব তানাএ ? -- কে মাছ ধরছে ?
দলা বির সেঁদেরাবুন সেনা – চল জঙ্গল শিকারে যাই।
তিসিং মাঘ বঙ্গা -- আজ মাঘ পূজা।
তিসিং আঁড়াদি অড়াঃ – আজ বিয়ে বাড়ি।
তিসিং সাসাং বসঃ – আজ হলুদ মাখা।
গাপা মেয়াং সেনা -- কাল পরসু যাবাে।
ইঞাঃ হনবেটা ডাক্তারী পড়হাও তানাএ -- আমার
ছেলে ডাক্তারী পড়ছে।
তিসিং ইসু রাবাং তানা – আজ খুব শীত করছে।
আপে মদসাই আতমেনপে -- তােমরা একদিকে সরে যাও।
আদিং নিদাদ অকতেয়াঃ হিজুঃ তানাম — এত রাতে কোথা থেকে আসছ।
উরিঃ মেরং আতিং তানাক — গরু ছাগল চরছে।

পুখরীরেয়াঃ দাঃ আ আঁজেদ যানা --
পুকুরের জল শুকিয়ে গেল।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ই, উ, উঁ, এ, এঁ এর ব্যবহার। --- মুন্ডারী অভিধান // Mundari dictionary//mundari abhidhan//Mundari sabdartha

 Mundari to Bengali translate               Mundari to Bengali dictionary                    !! ই !! ইতু -- শিখা। ইদুচা -- কে জানে, কি জানি। ইদাং – কিছু করার আগে। সকালে। ইসকির – মালিশ । ইদি -- নিয়ে যাওয়া। ইদি -- আউ -- নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা। ইদি রুওয়াড় – আউ রুওয়াড় -- নিয়ে গেছে, আবার নিয়ে আসা (অষ্টমঙ্গলা)। ইদিছাবা -- নিয়ে শেষ করে দেওয়া। ইদিতুকা -- পৌঁছে দেওয়া। ইদির -- সবসময় লাগাতার। এনদেরে – আগামী তিনদিনের পর চতুর্থদিন। (গাপা,মেয়াং, তেরে, এনদেরে) ইঁদি --- ইঁদ পরব। ইঁদি পিড়ি –ইঁদ মেলার মাঠ। ইনুং --  খেলা। ইঁদিখুণ্টা -- ইঁদ কাঠের খুঁটি। ইপিড় পিয়ুং -- তারাখসা। ইবিল -- ঘন। ইম -- কলিজা। ইমতাং -- তখন। ইঞাম –কাঁদা। ইর -- কাস্তে দিয়ে কাটা। ইসু সাগিং -- অনেক দূর। ইরাল –আট (সংখ্যা) ইরাল সা – আটবার। ইরিউল –স্বামীর ছােট ভাই, ছােট বােন। ইরেন – ধান কাটতে গিয়ে হাত কেটে যাওয়া। ইলি –হাঁড়িয়া ইলি আকিদ্ -- হাঁডিয়া বসানাে। ইলি চিপা -- হাঁড়িয়াকে জল দিয়ে বানান...

সারুল পূজা বা বা বঙ্গা

 "বা বঙ্গা" বা 'সারুল ' পূজা সাধারণত ফাল্গুন চৈত্র মাসে হয়। পূজার নির্দিষ্ট কোন দিন নেই তবে শাল গাছের যখন ফুল আসে, নতুন পাতা হয়, গাছে মহুল আসে এবং আম গাছে আম ফলে ওই সময় পূজা হয়। আগে গ্রামের 'দেহুরি' 'গরাম' থানে পূজা দেয়। তারপর বাড়িতে পূজা হয়। ঘরের ভিতরে 'হাড়াম বুড়ি' দের (পূর্বপুরুষদের) উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়া হয়। নতুন শাল ফুল, শালপাতার উপর আম, মহুল, ফুল শালপাতা তে দেওয়া হয়। পরে উঠোনে আবার পূজা করা হয়। ওখানে একটি 'হড়ে' কালটি ('কুড়থি' মুরগি) বলি দেওয়া হয়। যারা ফাগুন মাসে পূজা করতে পারে না তারা অবশ্যই চৈত্র সংক্রান্তির দিন "বা বঙ্গা" বা 'সারুল' পূজা করে। পূজার দিন গোটা বিরির ডাল রান্না করা হয়। 'হারলু' শাক এক রকমের শাক পাওয়া যায় সেই শাক বিরির ডালের সঙ্গে মেশানো হয়। এছাড়া কোথাও কোথাও "দিশুম বা বঙ্গা" অনুষ্ঠান পালিত হয়। পূজার দিন দল বেঁধে নারী-পুরুষ সবাই মিলে শাল ফুল আনতে জঙ্গলে যায়। পূজা কমিটির সভাপতি শাল গাছের নিচে পূজা করে। শাল ফুলের ডালা কেটে মিছিল সহকারে ধামসা মাদল বাজিয়ে...

বাঁধনা পরব বা 'সহরাই বঙ্গা' আদিবাসীদের উৎসব।

 'বাঁধনা' বা 'সহরাই বঙ্গা'  : -- বাঁধনা পরব বা সহরাই বঙ্গা হলো মূলত ঘরের গো মহিষাদির পূজা। এই পূজা কার্তিক মাসের অমাবস্যাতে হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন অর্থাৎ অমাবস্যা তিথি পড়লেই গরুগুলোর সিঙে তেল মাখানো হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন "গঠ" পূজা। "গঠ" মানে যেখানে গ্রামের সমস্ত গরুকে সকালবেলা জোড়ো করা হয়। গ্রামের সবাই একটি করে মুরগি, আতপ চাল, সিন্দুর নিয়ে পূজা স্থানে আসে। গ্রামের 'দেহুরি' পূজা করে। পূজা শেষে সমস্ত মুরগিকে ওখানে বলি দেওয়া হয় পূজা শেষ হলে সমস্ত মুরগির মাংস রান্না করে, খিচুড়ি হয়। সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘরে এসে ধামসা মাদল বার করে প্রত্যেক বাড়িতে গরু জায়গাতে ('জারগা') যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরের গোয়াল ঘরের দুয়ারে সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সবাই দল বেঁধে গান করতে করতে গরু জাগরণ করে। জাগরণ গান :-- রেইরেরে রেইরেরে রেইরেরে রেরে হো  রেই রেরে রেরে রেরে রেরে হো   পৌঁছাইতে পৌঁছাইতে কার্তিক মাস হো  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  হরিওরে  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  না গাইয়া কাঁদবে না গাইয়া হিঁজরবে   কিনি দিব সোনেকেরি...

"করম" দেবতার আদি কথা পর্ব ১ // karam rajar kahini

  অ নেক অনেক বছর আগেকার কথা এই পৃথিবী জুড়ে মৃত্তিকার (মাটির) কোনো অস্তিত্বই ছিল না। পৃথিবী জুড়ে ছিল শুধু জল আর জল।   স্বর্গপুরীর দেবতা রাজা দেবতা রানী দুজনে কথোপকথন হচ্ছিলেন ওই নিচে মাটি আছে না নেই দেখতে যাব চলুন। তাঁরা হাঁসের রূপ ধারণ করে উপর থেকে নিচে জলেতে নেমে আসলেন। জলেতে নেবে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মাটির খোঁজ করতে লাগলেন। কিন্তু কোন জায়গাতে মাটির একটুও চিহ্ন খুঁজে পেলেন না। তারপর একটা স্থানে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন কোথাও তো মাটি খুঁজে পেলাম না, চারিদিকে শুধু জল আর জল। দেবতা রাজা বললেন চলো স্বর্গে ফিরে চলে যায় স্বর্গের দেবী রানী বললেন না যাব না। এই জলের মধ্যে কারা থাকে ওদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করব, এই জলের নিচে মৃত্তিকা আছে না নেই। আর যদি আছে তবে কে মৃত্তিকা আনতে পারবে তাদের জিজ্ঞাসা করব। এই বলে জলের ভিতরে কারা কারা আছেন তাদের সবাইকে ডাকলেন। ডাক শুনে জলের ভিতর থেকে রাঘববোয়াল, কুমির, কচ্ছপ, কাঁকড়া আর কেঁচো উঠে আসলো। তারা সবাই মিলে দেবতা রাজা রানী কে জিজ্ঞাসা করল বলুন, আমাদের কিসের জন্য ডেকেছেন।দেবতারা   বললেন আচ্ছা তোমরা তো এই জলের মধ্যে থাকো জলের সবকিছুই তোমরা জানো। ব...

গরাম পূজা

 আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরাই সাধারণত এই "গরাম" পূজা করে থাকে। যেমন মুন্ডা, সাঁওতাল, কোল, কড়া, মাহাতো ইত্যাদি। মুন্ডা জনজাতিরা "গরাম" পুজা কিভাবে করে। মুন্ডারা মাঘ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধরে। পয়লা মাঘের দিন সকালে প্রত্যেক বাড়িতে গুরুজনদের পা ধুইয়ে দেওয়া হয়। ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে এবং বউরা পা ধুয়ে দেয় এবং গুরুজনেরা আশীর্বাদ করে। মাঘ পূজা :- 'মাঘ পূজা' মাসের যেকোনো শনিবার অথবা মঙ্গলবার দিন গ্রামের মাথায় পা মধ্যে পূজা করা হয়। পূজার দিন ভোর সকালে প্রত্যেক বাড়ি থেকেই "জুগিনি" ছাড়তে যাওয়া হয়। গ্রামের দক্ষিণ দিকে ফাঁকে কোন একটি ঝোপ ঝাড়ে এই "যুগিনি" দেবীর পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় বাসি ভাত-তরকারি, সিন্দুর, ধুপ, একটা কালো মুরগি বাচ্চা, ভাঙ্গা কুলো, ঝুড়ি, এবং একটি মুড়ো ঝাঁটা। বাড়ি থেকেই মুড়ো ঝাঁটাটি টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে "যুগিনি" ছাড়া হবে সেখানে পর্যন্ত। গ্রামের সবাই সেখানে উপস্থিত হলে "দেহুরি" "যুগিনি" দেবীর পূজা করেন। এবং মুরগির বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ...

মুণ্ডাদের মাতৃভাষা হারিয়ে যেতে বসেছে !!!

 ভারতের শিক্ষিত মানুষেরা গবেষণা করে দেখেছেন মুন্ডারাই নাকি ভারতের আদিম আদিবাসী। মুন্ডাদের সংস্কৃতিই নাকি ভারতের আদি সংস্কৃতি। কিন্তু আজ বহির্বিশ্বের পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ঘূর্ণিঝড়ের মতো এসে মূল মঞ্চ থেকে সরিয়ে অন্য মঞ্চে বসিয়ে দিয়েছে। শুধু মুন্ডা সংস্কৃতি নয় ভারতের সংস্কৃতিকেও আজ অন্য মঞ্চে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পারিনি কখন কিভাবে এমনটা ঘটে গেছে। সংস্কৃতির সাথে সাথে আমরা মুন্ডারা নিজেদের ভাষা ও ভুলে যেতে বসেছি। নিজেদের ভাষায় কথা না বলে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলছি। যারা মুন্ডারী ভাষা জানি না তারা বড় হলে বলে 'মা বাবা ছোট বেলায় মুন্ডারী ভাষা শিখাইনি। এখন কি করে মুন্ডারী ভাষায় কথা বলব'। এটা খুবই সত্যি কথা ছোটবেলায় মা বাবা যদি কথা বলতে না শিখায় তাহলে শিশু শিখবে কি করে। কারণ মা হচ্ছে শিশুটির কাছের মানুষ। মা প্রথম শিশুটিকে কথা বলতে শিখায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনকার দিনের মুন্ডা পরিবারের মায়েরা মুন্ডারী ভাষা জানা সত্ত্বেও শিশুটিকে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলতে শেখাচ্ছে। শিশু বয়সেই যদি আমরা শিশুদের দিকু ভাষায় কথা বলতে শিখাই তাহলে সেই শিশুরা বড় হলে দিকুতেই কথা বলব...

'লগ্ন ধরা' "আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 2

  আজকের পর্ব হলো 'লগ্ন ধরা' :- যেদিন লগ্ন ধরা হয় সেদিন পাত্রর বাড়ি থেকে "দুতামদার" সহ তিন থেকে পাঁচজন যায়। বাকি যে চার আনা পণ বাকি ছিল সেটা পাত্রীপক্ষের হাতে তুলে দেয়। এবং বিয়ে বাড়ির লগ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিয়ে বাড়ি সাধারণত ফাগুন মাসেই হয়। ঐ মাসে সম্ভব না হলে বৈশাখ অথবা আষাঢ় মাসে করা হয়। লগ্ন ধরার পর পাত্রপক্ষ পাত্রীপক্ষ কে সুপারি দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ করে। পাত্রীপক্ষও পাত্রপক্ষকে সুপারি দিয়ে নিমন্ত্রণ করে। মুন্ডাদের বিয়েতে আত্মীয়দের সুপারি দিয়েই নিমন্ত্রণ করা হয়।বিয়ের দিন সমস্ত নতুন কাপড়কে কাঁচা হলুদ বেটে রং করা হয়। বিয়ে বাড়ির সময় হলুদ কাপড়ের গন্ধে সারা বিয়ে বাড়ি ম-ম গন্ধ করতে থাকে। কাপড় হলুদ করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। ফাগুন মাস হচ্ছে বসন্তকাল অনেক কুটুম বন্ধুর আনাগোনা। হলুদ হচ্ছে জীবাণুনাশক। কোন রোগ জীবাণু যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্য নতুন কাপড় রং করা হয়। বিয়ের আগের দিন সকালবেলা "ডাঙ্গুয়া বাইরুওয়াড়" করা হয়। বরকে ওঝা বা গুনিন গ্রামের বাইরে মাঠে উই ঢিলার নিচে পূজা করে এবং ছেলেকে সৎ সাহসী ও কর্মঠ হওয়ার উপদেশ দেয়। ঐরূপ মেয়ের ব...

মুণ্ডারা মানুষ 'মারা' গেলে কি করে ?

মৃত্যু :- মুণ্ডা পরিবারের কারও মৃত্যু হলে মৃত্যু ব্যক্তিকে উঠানে বার করে জল দিয়ে তার মুখমন্ডল ভালোভাবে ধুয়ে তেল হলুদ মাখানো হয়। ওখানে উপস্থিত সকলেই মাখায় এবং মৃত ব্যক্তি পর পারে যাওয়ার জন্য যার যতটুকু সামর্থ্য টাকা পয়সা দেয়। শ্মশানে যাওয়ার আগে মৃত ব্যক্তির হাতে ধান দিয়ে তিনবার মাথার পিছন দিকে ছিটানো হয়। এর কারণ মৃত ব্যক্তির সাথে অর্জিত সম্পদ যেন না যায়। সধবা মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামী তার হাতের শাঁখা ভেঙ্গে দেয় এবং তার দেওয়া লোহার খাড়ু খুলে নেয়। স্ত্রী বর্তমানে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর হাতের শাঁখা তার দেওরেরা ভেঙ্গ দেয়। তার পর হরিবোল ধ্বনি দিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের সামর্থ্য থাকে তারা খোল কত্তাল সহকারে শ্মশানে নিয়ে যায়। যে স্থানে দাহ করা হবে সেখানে প্রথমে তিনবার ঘোরানো হয়। তারপর চিতার উপর তোলা হয়।  যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তার উত্তরাধিকারীরাই কেবল মুখাগ্নি করে। দাহ করা হয়ে গেলে তিন দিন পরে গ্রামের মা বোনেরা হাঁড়ি কলসিতে করে জল এনে আগুন নেভায়। আগুন নেভানোর পর মৃত ব্যক্তির একটি অস্থি নেওয়া হয়। অস্থিটি একটি নতুন মাটির গাঁড়ুতে রাখা হয়। গাঁড়ুর মুখ...

"আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 1

  মুন্ডা সমাজের বিবাহ অনেক রীতিনীতির মধ্যে দিয়ে হয়। তাই মুন্ডাদের বিবাহ সম্পর্কে জানতে হলে তা কয়েকটি পর্বে আলোচনা করা যায়। (1) পাত্রী দেখা (2) পরিচিতি (3) লগ্ন ধরা (4) শালাভেট (5) বেদীসাল (6) কাদা খেলা (7) ফেরতি।  ' পাত্রী দেখা' :- মুন্ডা জাতি বা গোষ্ঠীর লোকেরা পাত্র খুঁজতে যায় না। পাত্রী খুঁজতে যায়। কোন কুটুম বন্ধুর মাধ্যমে পাত্রীর সন্ধান করে "দুতামদার" বা 'ঘটক' কে নিয়ে পাত্রী দেখতে যাওয়া হয়। পাত্রী পছন্দ করে ছেলের বাবা-কাকা অথবা গুরুজনেরা। পাত্রী পছন্দ হলে পাত্র দেখতে যায়। দু'পক্ষের পছন্দ হলে "তুপু চাউলি" বা গণনা করা হয়। বাড়ির বউ সকালে স্নান করে উঠানে গোবর নাতা দেয় এবং তার উপর কাঁসার বাটি ভর্তি জল রাখা হয়। ওই জলে ধর্ম দেবতার নামে একটি আতপ চাল ও গরাম দেবীর নামে একটি আতপ চাল ফেলা হয়। একজন সাক্ষী নামে একটি সরিষা সিন্দুর লাগিয়ে ওই জলে দেওয়া হয়। পাত্র পাত্রীর নামে দুটো দূর্বাঘাস বাটিতে ফেলা হয়। ওই আতপ চাল, দূর্বা এবং সরিষা বাটির জলে ঘুরতে ঘুরতে যদি এক সঙ্গে মিলিত হয় তাহলে বিবাহ সুখের হয়। বর্তমানে "তুপু চাউলি"র প্রথা প্...