সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুন্ডারী ভাষায় রান্নার সরঞ্জাম ও রান্নার কাজ এবং ঘরোয়া জিনিসপত্রের নাম || Names of household and cooking utensils in Mundari language

 মুন্ডারী ভাষায় রান্নার সরঞ্জাম ও রান্নার কাজ এবং ঘরোয়া জিনিসপত্রের নাম।

মুন্ডারী টু বাংলা ডিকশনারি
রান্নার সরঞ্জামের নাম ---
চাটু --- হাঁড়ি।
কড়া --- কড়াই।
আতিরি --- ঢাকনা।
ঢাকনি --- ঢাকনা।
লৌটাড়িঁ --- খুন্তি।
কারচুলি --- ভাত বাড়ার চাটু।
ঘিনা --- তরকারি খাওয়া বাটি।
থাড়ি --- থালা।
ডুবা --- জামবাটি, কাঁসার বড় জামবাটি।
লটা --- ঘটি।
গিলাস --- গ্লাস।
কাড়াসা --- কলসি।
বালতিন --- বালতি।
কাতু --- বঁটি।
জাম্বুরা --- সাঁড়ালি।
চালা --- চালুনী।
হাটাঃ --- কুলা।
জুহলা --- উনুন।
পুকরুঁড়িঃ --- ফুঁকনলি।
গুড়গুদিরি --- শীল নড়া।
তারগাঁড়ু --- মুড়ি ভাজা চাটু।
ভুজা আতা চারি --- মুড়ি ভাজা খাঁচি।
রান্নার কাজের নাম ---
চাপি --- কোনো কিছু জলে ধোয়া।
আতা --- বিনা তেলে ভাজা।
ইতাদ মাডি --- অবশিষ্ট ভাত,
খাদিড়্ --- ভাতের হাঁড়িতে জল দেওয়া/জলে অথবা আগুনে দৌড়ে ঢুকা।
রাপাঃ --- পুড়ানো।
রঁগ --- বেশি পুড়ে যাওয়া।
গাসার --- বাসন মাজা।
লট্ পট্ --- এক সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া।
লাদা পাদা --- ঘন ডাল। ঘন তরকারি।
লু --- চাট্ট বা চামচ দিয়ে ভাত তরকারি বাড়া।
গুম্ --- কুলা দিয়ে পাছড়ানো।
গিলা/লে --- ভাত, ডাল অত্যধিক সিদ্ধ হওয়া।
জম-নু --- খাওয়া দাওয়া।
জনবি --- পেট ভরে খাওয়া,
জোজম্ --- খাওয়ার কাজ।
ঢিকা --- ভাতকে অতিরিক্ত সেদ্ধ করে ঢেলা পাকানো।
নুকুদ --- সুস্বাদ, রুচিকর।
পারিড়্ --- উচ্ছ্বলে যাওয়া।
বাসাং --- জল গরম হওয়া।
বি --- খেয়ে পেট ভরে যাওয়া।
বুসাড় --- ভাতের হাঁড়ি, ধানের হাঁড়ি ফেটে যাওয়া।
সাকিদ্ --- কোনো কিছু গরম করতে দিয়ে শুকে যাওয়া।
সাবাঃ --- আরনা (তরকারিতে নু না হওয়া)।
সারে ---  খেয়ে শেষ করতে না পারা।
সুয়ূদ্ --- হাতে মাখানো,চটকানো।
হোঁড়ে ---  ফুটানো।
সের --- গলানো, গলে যাওয়া।
সিপি --- জলে ভিজিয়ে রগড়ানো।
মাতরম্ --- সিদ্ধধান বেশি শুকে যাওয়া।
সুরপুদ্ --- ডাল, ঝোল, তরকারি হাত দিয়ে মুখে টেনে নেওয়া।  
ঘরোয়া জিনিসপত্রের নাম ---
সুই --- সূচ। 
সুতাম --- সুতা।
তিরসি --- জাল বুনার ছুঁচ।
সিকিড়ি --- শিকল।
দাতারম্ --- দা, কাস্তে।
পারকং --- খাট, খাটিয়া।
গাঁড়ু --- পিড়া/পিড়ি।
কারকাদ  --- ব্রাস, দাঁতুন।
কুঃউলাম --- কোদাল।
জনঃ --- ঝাঁটা।
লুকুই জনঃ --- ফুল ঝাড়ু।
টুটকি --- মুড়াঝাঁটা।
পাটি --- চাটাই।
কিতা জাটি --- খেজুর পাতার চাটাই।
চুকা --- ছোট মাটির গাড়ু।
টাটি --- প্রদীপ।
দামড়াং --- মাটির প্রদীপ।
জালম --- জাল।
বায়ার --- দড়ি।
চাতম --- ছাতা।
তাল চাতম --- তাল পাতার ছাতা।
মাদ্ চাতম --- বাঁশের ছাতা।
গুগু --- তাল পাতার তৈরি বর্ষাতি।
বাঁড়াসি --- মাছ ধরার বঁড়সি।
যানতা --- যাঁতা।
ডিংকি --- ঢেঁকি।
মেড়েঁদ --- লোহা।
লাটাব্ --- কাঁচি।
রুকা --- বাটালি।
হলাদ্ --- ক্ষুর।
হাকে --- কুঠার।
কাপি --- টাঁগি।
তাবলা --- কুঠার জাতীয় টাঙ্গি।
মুগরা, মগারু --- কাঠের হাতুড়ি।
হুড়কা --- দরজার খিল।
সুর্সা --- কাঠের ছিটকিনি।
কামাডা --- কম্বল।
গাসার --- বাসন মাজা।
লঁড়া --- ঘর মোছা বা পাতা দেওয়া।
ডুলি --- পালকি।
ডিলুয়া --- ঝুলন।
আদিং --- ভিতর ঘর।
আংকা দুয়ার --- ঘরের মূল ফটক।
কুঁড়াম --- ঘরের পিছনের দিক।
কুঁরা অড়াঃ --- কুঁড়ে ঘর।
গিতি অড়াঃ – শোওয়ার ঘর।
চাঁন্দায় --- ঘরের চাল।
চোটাঃ --- দেওয়ালের মাটি ছাড়ানো।
জলম – দেওয়ালে বা মেঝেতে মাটি লেপা।
টোপরা --- গম্বুজ।
তাপাঃ --- হাত দিয়ে মাটি লেপা।
দুয়ার --- দুয়ার।
পিঁড়িগি – উঁচু বারান্দা।
পোচেরা --- চুনকাম করা।
বাখুল --- চারিদিকে দেখা ঘর।
বেনডা --- দরজা বন্ধ করার লাঠি।
রাচাঃ --- উঠান/ বাহির।
সাড়ে --- ঘরের বাইরের চালা।
হুড়কা --- দরজার খিল।
সিলপিং – দরজা।
দাব --- ঘর ছাওয়া।
সাড়িমা --- ঘরের চাল।
সাড়ে --- ঘরের বাইরে চালা ঘর।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ই, উ, উঁ, এ, এঁ এর ব্যবহার। --- মুন্ডারী অভিধান // Mundari dictionary//mundari abhidhan//Mundari sabdartha

 Mundari to Bengali translate               Mundari to Bengali dictionary                    !! ই !! ইতু -- শিখা। ইদুচা -- কে জানে, কি জানি। ইদাং – কিছু করার আগে। সকালে। ইসকির – মালিশ । ইদি -- নিয়ে যাওয়া। ইদি -- আউ -- নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা। ইদি রুওয়াড় – আউ রুওয়াড় -- নিয়ে গেছে, আবার নিয়ে আসা (অষ্টমঙ্গলা)। ইদিছাবা -- নিয়ে শেষ করে দেওয়া। ইদিতুকা -- পৌঁছে দেওয়া। ইদির -- সবসময় লাগাতার। এনদেরে – আগামী তিনদিনের পর চতুর্থদিন। (গাপা,মেয়াং, তেরে, এনদেরে) ইঁদি --- ইঁদ পরব। ইঁদি পিড়ি –ইঁদ মেলার মাঠ। ইনুং --  খেলা। ইঁদিখুণ্টা -- ইঁদ কাঠের খুঁটি। ইপিড় পিয়ুং -- তারাখসা। ইবিল -- ঘন। ইম -- কলিজা। ইমতাং -- তখন। ইঞাম –কাঁদা। ইর -- কাস্তে দিয়ে কাটা। ইসু সাগিং -- অনেক দূর। ইরাল –আট (সংখ্যা) ইরাল সা – আটবার। ইরিউল –স্বামীর ছােট ভাই, ছােট বােন। ইরেন – ধান কাটতে গিয়ে হাত কেটে যাওয়া। ইলি –হাঁড়িয়া ইলি আকিদ্ -- হাঁডিয়া বসানাে। ইলি চিপা -- হাঁড়িয়াকে জল দিয়ে বানান...

সারুল পূজা বা বা বঙ্গা

 "বা বঙ্গা" বা 'সারুল ' পূজা সাধারণত ফাল্গুন চৈত্র মাসে হয়। পূজার নির্দিষ্ট কোন দিন নেই তবে শাল গাছের যখন ফুল আসে, নতুন পাতা হয়, গাছে মহুল আসে এবং আম গাছে আম ফলে ওই সময় পূজা হয়। আগে গ্রামের 'দেহুরি' 'গরাম' থানে পূজা দেয়। তারপর বাড়িতে পূজা হয়। ঘরের ভিতরে 'হাড়াম বুড়ি' দের (পূর্বপুরুষদের) উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়া হয়। নতুন শাল ফুল, শালপাতার উপর আম, মহুল, ফুল শালপাতা তে দেওয়া হয়। পরে উঠোনে আবার পূজা করা হয়। ওখানে একটি 'হড়ে' কালটি ('কুড়থি' মুরগি) বলি দেওয়া হয়। যারা ফাগুন মাসে পূজা করতে পারে না তারা অবশ্যই চৈত্র সংক্রান্তির দিন "বা বঙ্গা" বা 'সারুল' পূজা করে। পূজার দিন গোটা বিরির ডাল রান্না করা হয়। 'হারলু' শাক এক রকমের শাক পাওয়া যায় সেই শাক বিরির ডালের সঙ্গে মেশানো হয়। এছাড়া কোথাও কোথাও "দিশুম বা বঙ্গা" অনুষ্ঠান পালিত হয়। পূজার দিন দল বেঁধে নারী-পুরুষ সবাই মিলে শাল ফুল আনতে জঙ্গলে যায়। পূজা কমিটির সভাপতি শাল গাছের নিচে পূজা করে। শাল ফুলের ডালা কেটে মিছিল সহকারে ধামসা মাদল বাজিয়ে...

বাঁধনা পরব বা 'সহরাই বঙ্গা' আদিবাসীদের উৎসব।

 'বাঁধনা' বা 'সহরাই বঙ্গা'  : -- বাঁধনা পরব বা সহরাই বঙ্গা হলো মূলত ঘরের গো মহিষাদির পূজা। এই পূজা কার্তিক মাসের অমাবস্যাতে হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন অর্থাৎ অমাবস্যা তিথি পড়লেই গরুগুলোর সিঙে তেল মাখানো হয়। গোয়াল পূজার আগের দিন "গঠ" পূজা। "গঠ" মানে যেখানে গ্রামের সমস্ত গরুকে সকালবেলা জোড়ো করা হয়। গ্রামের সবাই একটি করে মুরগি, আতপ চাল, সিন্দুর নিয়ে পূজা স্থানে আসে। গ্রামের 'দেহুরি' পূজা করে। পূজা শেষে সমস্ত মুরগিকে ওখানে বলি দেওয়া হয় পূজা শেষ হলে সমস্ত মুরগির মাংস রান্না করে, খিচুড়ি হয়। সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘরে এসে ধামসা মাদল বার করে প্রত্যেক বাড়িতে গরু জায়গাতে ('জারগা') যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরের গোয়াল ঘরের দুয়ারে সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সবাই দল বেঁধে গান করতে করতে গরু জাগরণ করে। জাগরণ গান :-- রেইরেরে রেইরেরে রেইরেরে রেরে হো  রেই রেরে রেরে রেরে রেরে হো   পৌঁছাইতে পৌঁছাইতে কার্তিক মাস হো  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  হরিওরে  মুডুরিনী গাইয়া মোর কাঁদেরে  না গাইয়া কাঁদবে না গাইয়া হিঁজরবে   কিনি দিব সোনেকেরি...

"করম" দেবতার আদি কথা পর্ব ১ // karam rajar kahini

  অ নেক অনেক বছর আগেকার কথা এই পৃথিবী জুড়ে মৃত্তিকার (মাটির) কোনো অস্তিত্বই ছিল না। পৃথিবী জুড়ে ছিল শুধু জল আর জল।   স্বর্গপুরীর দেবতা রাজা দেবতা রানী দুজনে কথোপকথন হচ্ছিলেন ওই নিচে মাটি আছে না নেই দেখতে যাব চলুন। তাঁরা হাঁসের রূপ ধারণ করে উপর থেকে নিচে জলেতে নেমে আসলেন। জলেতে নেবে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মাটির খোঁজ করতে লাগলেন। কিন্তু কোন জায়গাতে মাটির একটুও চিহ্ন খুঁজে পেলেন না। তারপর একটা স্থানে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন কোথাও তো মাটি খুঁজে পেলাম না, চারিদিকে শুধু জল আর জল। দেবতা রাজা বললেন চলো স্বর্গে ফিরে চলে যায় স্বর্গের দেবী রানী বললেন না যাব না। এই জলের মধ্যে কারা থাকে ওদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করব, এই জলের নিচে মৃত্তিকা আছে না নেই। আর যদি আছে তবে কে মৃত্তিকা আনতে পারবে তাদের জিজ্ঞাসা করব। এই বলে জলের ভিতরে কারা কারা আছেন তাদের সবাইকে ডাকলেন। ডাক শুনে জলের ভিতর থেকে রাঘববোয়াল, কুমির, কচ্ছপ, কাঁকড়া আর কেঁচো উঠে আসলো। তারা সবাই মিলে দেবতা রাজা রানী কে জিজ্ঞাসা করল বলুন, আমাদের কিসের জন্য ডেকেছেন।দেবতারা   বললেন আচ্ছা তোমরা তো এই জলের মধ্যে থাকো জলের সবকিছুই তোমরা জানো। ব...

গরাম পূজা

 আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকেরাই সাধারণত এই "গরাম" পূজা করে থাকে। যেমন মুন্ডা, সাঁওতাল, কোল, কড়া, মাহাতো ইত্যাদি। মুন্ডা জনজাতিরা "গরাম" পুজা কিভাবে করে। মুন্ডারা মাঘ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধরে। পয়লা মাঘের দিন সকালে প্রত্যেক বাড়িতে গুরুজনদের পা ধুইয়ে দেওয়া হয়। ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে এবং বউরা পা ধুয়ে দেয় এবং গুরুজনেরা আশীর্বাদ করে। মাঘ পূজা :- 'মাঘ পূজা' মাসের যেকোনো শনিবার অথবা মঙ্গলবার দিন গ্রামের মাথায় পা মধ্যে পূজা করা হয়। পূজার দিন ভোর সকালে প্রত্যেক বাড়ি থেকেই "জুগিনি" ছাড়তে যাওয়া হয়। গ্রামের দক্ষিণ দিকে ফাঁকে কোন একটি ঝোপ ঝাড়ে এই "যুগিনি" দেবীর পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় বাসি ভাত-তরকারি, সিন্দুর, ধুপ, একটা কালো মুরগি বাচ্চা, ভাঙ্গা কুলো, ঝুড়ি, এবং একটি মুড়ো ঝাঁটা। বাড়ি থেকেই মুড়ো ঝাঁটাটি টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে "যুগিনি" ছাড়া হবে সেখানে পর্যন্ত। গ্রামের সবাই সেখানে উপস্থিত হলে "দেহুরি" "যুগিনি" দেবীর পূজা করেন। এবং মুরগির বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ...

Mundari to Bengali meaning || Mundari to Bengali dictionary || Mundari to Bengali translate || মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্য।

 Mundari to Bengali translate  মুন্ডারী ভাষায় কথা বলার কিছু শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার। ইং — আমি। আলিং – আমরা দুজন। আলে -- আমরা অনেকে। ইঞাঃ – আমার। আলিঞাঃ – আমাদের দুজনের। আলেয়াঃ – আমাদের সকলের। আঞকে – আমাকে। আলিংকে – আমাদের দুজনকে। আলেকে -- আমাদিগকে। আম্ -- তুমি। আবেন -- তােমরা দুজনে। আপে -- তােমরা সকলে। আমাঃ -- তােমার। অবেনাঃ -- তােমাদের দুজনে। আপেয়াঃ -- তােমাদের সকলের। আমকে -- তােমাকে। আবেনকে -- তােমাদের দুজনকে। আপেকে -- তােমাদিগকে। আএ -- সে। আকিন – তারা দুজনে। আক -- তাহারা। আয়াঃ — তার। আকিনাঃ -- তাদের দুজনের। আকওয়াঃ — তাহাদের। আএ কে -- তাকে। আকিনকে -- তাদের দুজনকে। আককে – তাহাদিগকে। নিকুঃ -- ওরা। নিকুঃগে -- ওরাই। নিকুয়াঃ গে – ওদেরই। এঁগাঞ -- আমার মা। আপঞ – আমার বাবা। এঁগাম্ -- তােমার মা। আপম্ -- তােমার বাবা। এঁগাতেদ্ — তার মা। আপতেদ্ -- তার বাবা। হঁজারিং – শ্বশুর (আমার) হানারিং – আমার শ্বাশুড়ি। ইঁজার মে – তােমার শ্বশুর। হানার মে -- তােমার শ্বাশুড়ি। হঁজারতেদ্ -- তার শ্বশুর। হানারতেদ্ – তার শ্বাশুড়ি। বাউ হঁজারিং – তােমার ভাসুর। । আজ...

মুণ্ডাদের মাতৃভাষা হারিয়ে যেতে বসেছে !!!

 ভারতের শিক্ষিত মানুষেরা গবেষণা করে দেখেছেন মুন্ডারাই নাকি ভারতের আদিম আদিবাসী। মুন্ডাদের সংস্কৃতিই নাকি ভারতের আদি সংস্কৃতি। কিন্তু আজ বহির্বিশ্বের পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ঘূর্ণিঝড়ের মতো এসে মূল মঞ্চ থেকে সরিয়ে অন্য মঞ্চে বসিয়ে দিয়েছে। শুধু মুন্ডা সংস্কৃতি নয় ভারতের সংস্কৃতিকেও আজ অন্য মঞ্চে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পারিনি কখন কিভাবে এমনটা ঘটে গেছে। সংস্কৃতির সাথে সাথে আমরা মুন্ডারা নিজেদের ভাষা ও ভুলে যেতে বসেছি। নিজেদের ভাষায় কথা না বলে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলছি। যারা মুন্ডারী ভাষা জানি না তারা বড় হলে বলে 'মা বাবা ছোট বেলায় মুন্ডারী ভাষা শিখাইনি। এখন কি করে মুন্ডারী ভাষায় কথা বলব'। এটা খুবই সত্যি কথা ছোটবেলায় মা বাবা যদি কথা বলতে না শিখায় তাহলে শিশু শিখবে কি করে। কারণ মা হচ্ছে শিশুটির কাছের মানুষ। মা প্রথম শিশুটিকে কথা বলতে শিখায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনকার দিনের মুন্ডা পরিবারের মায়েরা মুন্ডারী ভাষা জানা সত্ত্বেও শিশুটিকে অ-মুন্ডারী(দিকু) ভাষায় কথা বলতে শেখাচ্ছে। শিশু বয়সেই যদি আমরা শিশুদের দিকু ভাষায় কথা বলতে শিখাই তাহলে সেই শিশুরা বড় হলে দিকুতেই কথা বলব...

'লগ্ন ধরা' "আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 2

  আজকের পর্ব হলো 'লগ্ন ধরা' :- যেদিন লগ্ন ধরা হয় সেদিন পাত্রর বাড়ি থেকে "দুতামদার" সহ তিন থেকে পাঁচজন যায়। বাকি যে চার আনা পণ বাকি ছিল সেটা পাত্রীপক্ষের হাতে তুলে দেয়। এবং বিয়ে বাড়ির লগ্ন নিয়ে আলোচনা হয়। বিয়ে বাড়ি সাধারণত ফাগুন মাসেই হয়। ঐ মাসে সম্ভব না হলে বৈশাখ অথবা আষাঢ় মাসে করা হয়। লগ্ন ধরার পর পাত্রপক্ষ পাত্রীপক্ষ কে সুপারি দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ করে। পাত্রীপক্ষও পাত্রপক্ষকে সুপারি দিয়ে নিমন্ত্রণ করে। মুন্ডাদের বিয়েতে আত্মীয়দের সুপারি দিয়েই নিমন্ত্রণ করা হয়।বিয়ের দিন সমস্ত নতুন কাপড়কে কাঁচা হলুদ বেটে রং করা হয়। বিয়ে বাড়ির সময় হলুদ কাপড়ের গন্ধে সারা বিয়ে বাড়ি ম-ম গন্ধ করতে থাকে। কাপড় হলুদ করার একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। ফাগুন মাস হচ্ছে বসন্তকাল অনেক কুটুম বন্ধুর আনাগোনা। হলুদ হচ্ছে জীবাণুনাশক। কোন রোগ জীবাণু যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্য নতুন কাপড় রং করা হয়। বিয়ের আগের দিন সকালবেলা "ডাঙ্গুয়া বাইরুওয়াড়" করা হয়। বরকে ওঝা বা গুনিন গ্রামের বাইরে মাঠে উই ঢিলার নিচে পূজা করে এবং ছেলেকে সৎ সাহসী ও কর্মঠ হওয়ার উপদেশ দেয়। ঐরূপ মেয়ের ব...

মুণ্ডারা মানুষ 'মারা' গেলে কি করে ?

মৃত্যু :- মুণ্ডা পরিবারের কারও মৃত্যু হলে মৃত্যু ব্যক্তিকে উঠানে বার করে জল দিয়ে তার মুখমন্ডল ভালোভাবে ধুয়ে তেল হলুদ মাখানো হয়। ওখানে উপস্থিত সকলেই মাখায় এবং মৃত ব্যক্তি পর পারে যাওয়ার জন্য যার যতটুকু সামর্থ্য টাকা পয়সা দেয়। শ্মশানে যাওয়ার আগে মৃত ব্যক্তির হাতে ধান দিয়ে তিনবার মাথার পিছন দিকে ছিটানো হয়। এর কারণ মৃত ব্যক্তির সাথে অর্জিত সম্পদ যেন না যায়। সধবা মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামী তার হাতের শাঁখা ভেঙ্গে দেয় এবং তার দেওয়া লোহার খাড়ু খুলে নেয়। স্ত্রী বর্তমানে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর হাতের শাঁখা তার দেওরেরা ভেঙ্গ দেয়। তার পর হরিবোল ধ্বনি দিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের সামর্থ্য থাকে তারা খোল কত্তাল সহকারে শ্মশানে নিয়ে যায়। যে স্থানে দাহ করা হবে সেখানে প্রথমে তিনবার ঘোরানো হয়। তারপর চিতার উপর তোলা হয়।  যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তার উত্তরাধিকারীরাই কেবল মুখাগ্নি করে। দাহ করা হয়ে গেলে তিন দিন পরে গ্রামের মা বোনেরা হাঁড়ি কলসিতে করে জল এনে আগুন নেভায়। আগুন নেভানোর পর মৃত ব্যক্তির একটি অস্থি নেওয়া হয়। অস্থিটি একটি নতুন মাটির গাঁড়ুতে রাখা হয়। গাঁড়ুর মুখ...

"আঁড়দি" মুন্ডা সমাজের 'বিবাহ'। পর্ব 1

  মুন্ডা সমাজের বিবাহ অনেক রীতিনীতির মধ্যে দিয়ে হয়। তাই মুন্ডাদের বিবাহ সম্পর্কে জানতে হলে তা কয়েকটি পর্বে আলোচনা করা যায়। (1) পাত্রী দেখা (2) পরিচিতি (3) লগ্ন ধরা (4) শালাভেট (5) বেদীসাল (6) কাদা খেলা (7) ফেরতি।  ' পাত্রী দেখা' :- মুন্ডা জাতি বা গোষ্ঠীর লোকেরা পাত্র খুঁজতে যায় না। পাত্রী খুঁজতে যায়। কোন কুটুম বন্ধুর মাধ্যমে পাত্রীর সন্ধান করে "দুতামদার" বা 'ঘটক' কে নিয়ে পাত্রী দেখতে যাওয়া হয়। পাত্রী পছন্দ করে ছেলের বাবা-কাকা অথবা গুরুজনেরা। পাত্রী পছন্দ হলে পাত্র দেখতে যায়। দু'পক্ষের পছন্দ হলে "তুপু চাউলি" বা গণনা করা হয়। বাড়ির বউ সকালে স্নান করে উঠানে গোবর নাতা দেয় এবং তার উপর কাঁসার বাটি ভর্তি জল রাখা হয়। ওই জলে ধর্ম দেবতার নামে একটি আতপ চাল ও গরাম দেবীর নামে একটি আতপ চাল ফেলা হয়। একজন সাক্ষী নামে একটি সরিষা সিন্দুর লাগিয়ে ওই জলে দেওয়া হয়। পাত্র পাত্রীর নামে দুটো দূর্বাঘাস বাটিতে ফেলা হয়। ওই আতপ চাল, দূর্বা এবং সরিষা বাটির জলে ঘুরতে ঘুরতে যদি এক সঙ্গে মিলিত হয় তাহলে বিবাহ সুখের হয়। বর্তমানে "তুপু চাউলি"র প্রথা প্...